আন্তর্জাতিক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। Wall Street Journal-এর সর্বশেষ জরিপে তাঁর চাকরির অনুমোদন ৩৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ১৯৯০ সাল থেকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ওই পত্রিকার জরিপে কোনো প্রেসিডেন্টের জন্য সর্বনিম্ন। জরিপে ৬১ শতাংশ ভোটার ট্রাম্পের কাজের প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনসমর্থনের পাশাপাশি তাঁর অর্থনীতি ও ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত নীতিও জনমতের চাপে পড়েছে।
২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত Reuters/Ipsos জরিপেও ট্রাম্পের জনসমর্থনের বড় পতনের চিত্র উঠে এসেছে। ১ হাজার ২৭৭ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত ওই জরিপে ট্রাম্পের সামগ্রিক চাকরির অনুমোদন ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সর্বনিম্ন। জরিপটির ত্রুটিসীমা ছিল ৩ শতাংশ পয়েন্ট।
জরিপ অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্ট। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রতিও জনসমর্থন সীমিত রয়েছে। একই জরিপে ৮২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ভোটারদের মধ্যেও তাঁর অনুমোদন কমেছে। Reuters/Ipsos-এর জরিপে এক সপ্তাহের ব্যবধানে রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদন ৮২ শতাংশ থেকে কমে ৭৩ শতাংশে নেমেছে।
জরিপে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টিও উঠে এসেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে অসন্তুষ্টি তাঁর জনসমর্থন কমার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। একই সময়ে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি ও অন্যান্য ব্যয়ের ওপর পড়ছে।
প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তার সঙ্গে মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাঁর দলের আসন হারানোর একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। Gallup-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৫০ সালের পর যেসব মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় কোনো প্রেসিডেন্টের অনুমোদন ৫০ শতাংশের নিচে ছিল, সেসব ক্ষেত্রে তাঁর দল প্রতিনিধি পরিষদে গড়ে ৩৭টি আসন হারিয়েছে। তবে এটি ঐতিহাসিক গড়; কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনের ফলাফল পূর্বাভাস দেয় না।
বর্তমান জরিপগুলোতে ট্রাম্পের জনসমর্থনের পতন স্পষ্ট হলেও, এসব পরিসংখ্যান থেকে নভেম্বরের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। নির্বাচনের আগে জনমত পরিবর্তিত হতে পারে এবং জাতীয় জরিপের ফল সব কংগ্রেসনাল আসনের স্থানীয় প্রতিযোগিতাকে সরাসরি প্রতিফলিত করে না।