নেপালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ভ্রমণে বাংলাদেশি পর্যটকদের সতর্কতা জারি
নেপালে চলমান ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধসের কারণে অন্নপূর্ণা, মানাং ও মুস্তাংসহ বিভিন্ন পার্বত্য এলাকায় ভ্রমণে বাংলাদেশি পর্যটকদের সতর্ক করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
আন্তর্জাতিক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে উল্লেখ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সাত দিনের একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবের রূপরেখাও তুলে ধরেছেন তিনি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘মিট দ্য প্রেস’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি এই দ্বিমুখী বার্তার কথা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে—এমন খবর তেহরানের কানে এলেও যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ইরান। প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে সামরিক হামলা বন্ধ, ইরানের জব্দকৃত সম্পদ অবমুক্তকরণ, অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার এবং তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়ার মতো পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।
আরাগচি জানান, ‘আমাদের প্রস্তাব খুবই পরিষ্কার। যুক্তরাষ্ট্র চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে আমরা প্রণালি খুলে দিতে প্রস্তুত।’ তাঁর রূপরেখা অনুযায়ী, ষষ্ঠ দিনে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে এবং সপ্তম দিনে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং পরবর্তীতে সামুদ্রিক অবরোধের জেরে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে গভীর অনাস্থার কথা প্রকাশ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, অতীতে আলোচনার টেবিলে থেকেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বোমা হামলা চালিয়েছে এবং স্বাক্ষরিত চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। ট্রাম্পকে বিশ্বাস করেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের বিশ্বাস করি।’
ভবিষ্যতে নতুন করে হামলার আশঙ্কার বিষয়ে আরাগচি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, পূর্বের সংঘাত থেকে তেহরান শিক্ষা নিয়েছে এবং নিজস্ব সামরিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন কোনো আগ্রাসন হলে তা ধ্বংসাত্মক রূপ নিলেও ইরান তা শক্ত হাতে মোকাবিলা করবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপরই নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে আরাগচি স্পষ্ট করেন যে, চিকিৎসা খাতসহ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে এবং ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে আলোচনার প্রস্তাবও তাদের রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক আস্থা তৈরির জন্য সাত দিনের প্রাথমিক প্রস্তাবে পরমাণু ইস্যুটি রাখা হয়নি, যা পরবর্তী পর্যায়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত রয়েছে। এছাড়া ইরানে ক্ষমতার একাধিক কেন্দ্র তৈরি হওয়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকার, আইআরজিসি, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ও পার্লামেন্টের সঙ্গে সম্পূর্ণ সমন্বয় রেখেই কাজ করে যাচ্ছে।