যশোরে শার্শা সীমান্ত থেকে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার ২৬টি স্বর্ণের বারসহ যুবক গ্রেপ্তার
যশোরের শার্শা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩ কেজি ৪৩৮ গ্রাম ওজনের ২৬টি স্বর্ণের বারসহ এক যুবক গ্রেপ্তার হয়েছেন। জব্দ করা স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
জামালপুর: একপাশে ঝিনাই নদ, অন্যপাশে জনবসতিহীন বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ। নেই কোনো সংযোগ সড়ক বা যাতায়াতের পথ। এমন একটি প্রত্যন্ত ও অনুপোযুক্ত স্থানে জনস্বার্থের তোয়াক্কা না করে প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ৯৫ মিটার দীর্ঘ একটি বিশাল সেতু। সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও স্থানীয় মানুষের কোনো কাজে না এসে এটি বর্তমানে মূলত ধান ও খড় শুকানোর কাজেই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ‘ময়মনসিংহ অঞ্চল পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় জামালপুর সদর উপজেলার হাটচন্দ্রা এলাকায় ঝিনাই নদের ওপর এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ২০২২ সালের ১৫ মার্চ এর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০২৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তা যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। দৈর্ঘ্যে ৯৫ মিটার এবং প্রস্থে ৯ দশমিক ৮ মিটার এই সেতুটির মোট নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ১৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা।
জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার পশ্চিমে হাটচন্দ্রা মিয়াবাড়ি বাজার। এই বাজার থেকে আরও ৫০০ মিটার পশ্চিমে এগোলেই ঝিনাই নদ। নদের পূর্ব পারে কিছু জনবসতি ও হাটচন্দ্রা এলাকাটি জামালপুর সদর পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হলেও, পশ্চিম পারে মেলান্দহ উপজেলার চরপলিশা ও মধ্যেরচর এলাকা। সেতুর পশ্চিম পারে কোনো পাকা বা কাঁচা সড়ক তো দূরের কথা, আশপাশের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো জনবসতিই নেই। ফলে স্থানীয় এলাকাবাসী বা ওই দুই এলাকার মানুষের এই সেতুর দিকে যাতায়াতের কোনো সুযোগ বা প্রয়োজন নেই।
সেতুর পশ্চিম পারের কৃষক আবদুস সালাম ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে সেতুর পশ্চিম পাশের পুরো বিস্তীর্ণ জমি পানির নিচে ডুবে থাকে এবং শুকনা মৌসুমে সেখানে শুধু ধান ও শাকসবজি চাষ হয়। তৎকালীন সময়ে সেতুটি নির্মাণ হতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম অবাক হয়েছিলেন। অনেকে ভেবেছিলেন সেখানে কোনো বিশেষ প্রকল্প হবে, পরবর্তীতে জানা যায় রাজনৈতিক কোনো নেতার প্রভাবেই এই অপরিকল্পিত সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে।
জামালপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান জানান, এত বড় একটি সেতু নির্মাণের আগে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের মতামত বা পরামর্শ নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, এলজিইডি জামালপুর কার্যালয়ের সদ্য বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী রোজদিদ আহম্মেদ সেতুর পশ্চিম পাশে সড়ক না থাকার কথা স্বীকার করলেও দাবি করেন যে, সেখানে সড়ক নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
প্রকল্পের বর্তমান পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, “ওই সেতুর এক পাশে সড়ক না থাকার বিষয়টি আমি জানি। প্রকল্পের শুরুর দিকেই সেতুটি নির্মাণ হয়েছে। আমি তখন এই দায়িত্বে ছিলাম না। রাজনৈতিক কিছু নেতার তদবিরের কারণেই মূলত সেতুটি নির্মিত হয়ে থাকতে পারে।”
উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে স্থানীয় মানুষের প্রকৃত চাহিদা ও উপযোগিতা যাচাই না করার তীব্র সমালোচনা করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। জামালপুরের নগর উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, জনগণের করের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রতিটি প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। কোটি কোটি টাকা খরচ করে একপাশে সড়কবিহীন এমন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা, প্রয়োজন ও বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়াটি উচ্চপর্যায়ে তদন্ত করে দেখা উচিত এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দায় নির্ধারণ করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।