যশোরে শার্শা সীমান্ত থেকে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার ২৬টি স্বর্ণের বারসহ যুবক গ্রেপ্তার
যশোরের শার্শা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩ কেজি ৪৩৮ গ্রাম ওজনের ২৬টি স্বর্ণের বারসহ এক যুবক গ্রেপ্তার হয়েছেন। জব্দ করা স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
ঢাকা: আজ ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য—‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’। দিবসটি ঘিরে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি চললেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটছে।
সম্প্রতি সাতক্ষীরায় ১১ বছর ৯ মাস বয়সী চতুর্থ শ্রেণির এক শিশুর বাল্যবিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়েছে। সরকারি হিসাবে গত কয়েক বছরে প্রশাসনের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের সংখ্যা কমেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অধিকারকর্মীদের মতে, এ পরিসংখ্যান দিয়ে দেশে বাল্যবিয়ের প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি বোঝা যায় না।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে ১ হাজার ৮৪৬টি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা হয়। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৭৪টিতে। ২০২৫ সালে আরও কমে ৯৬৮টি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা হয়।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রশাসনের নথিভুক্ত বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের সংখ্যা ৪৭৯টি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব তথ্য মূলত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হওয়া এবং নথিভুক্ত বাল্যবিয়ের হিসাব। ফলে এর মাধ্যমে দেশের সব বাল্যবিয়ের প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত জানান, অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবেশীদের সমর্থন না পাওয়া কিংবা পরিবারের সম্মানহানির আশঙ্কায় বাল্যবিয়ের তথ্য গোপন রাখা হয়। ফলে সব ঘটনা প্রশাসনের নজরে আসে না।
তিনি জানান, গত সাড়ে নয় মাসে তিনি ৫০টির বেশি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন। এসব ঘটনায় অধিকাংশ মেয়ের বয়স ছিল ১৪ থেকে ১৬ বছর। এর মধ্যে সম্প্রতি যে শিশুটির বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে, তার বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর ৯ মাস।
স্থানীয় অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, শুধু মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের ছেড়ে দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় কিছু পরিবার গোপনে আবারও বাল্যবিয়ের উদ্যোগ নিতে পারে।
বাল্যবিয়ের পেছনে দারিদ্র্য, উপযুক্ত পাত্র পাওয়ার চিন্তা, যৌতুকের আশঙ্কা এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনীহাসহ নানা কারণ রয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণা ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এ ছাড়া মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাল্যবিয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ধর্ষণ, অপহরণ ও যৌন হয়রানির আশঙ্কায় অনেক অভিভাবক মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে মাঠপর্যায়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য।
বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে কাজ করা বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার তহবিল সংকট এবং সরকারি প্রকল্পের কার্যক্রমে ধীরগতিকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অধিকারকর্মীরা। অনেক এলাকায় গঠিত বাল্যবিয়ে নিরোধ কমিটিগুলোও কার্যকরভাবে কাজ করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মোড়া জাহিদ হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, বাল্যবিয়ে একটি বড় সামাজিক সমস্যা এবং আইন কার্যকর করতে মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত জনবল প্রয়োজন।
চলতি মাসে জাতীয় পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বাল্যবিয়ে নিরোধ কমিটিগুলো পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে থাকা ৪ হাজার ৮৮৩টি ক্লাবের সংখ্যা বাড়িয়ে ১৪ হাজার ৭৯০ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের মেয়াদও ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীদের মতে, প্রশাসনিক অভিযান চালিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা সম্ভব হলেও শুধু অভিযান বা মুচলেকার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে এ প্রবণতা বন্ধ করা কঠিন।
তাঁদের মতে, কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষার সুযোগ ধরে রাখা, পরিবারকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করা এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। এসব উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।