মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৪৭৬ জন মিয়ানমারের শরণার্থীকে ফেরত পাঠালো
মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্র থেকে তিনটি নৌযানে করে মিয়ানমারের ১ হাজার ৪৭৬ জন নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।
আন্তর্জাতিক: আসন্ন নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটের ক্ষমতা প্রয়োগ করে কংগ্রেস থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য মার্কিন ভোটারদের প্রতি প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়েছে ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। অন্যদিকে, দীর্ঘ দুই দশক পর ইরাক থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ায় এটিকে নিজেদের বড় বিজয় হিসেবে দেখছে তেহরান।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আইআরজিসির প্রকাশিত ২৬ পাতার একটি খোলাচিঠিতে এই আহ্বান জানানো হয়। মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশে লেখা ওই চিঠিতে বর্তমান নেতাদের দপ্তর থেকে হটিয়ে দেওয়া, ইসরায়েলের প্রতি অন্ধ সমর্থন বর্জন এবং বিদেশে যেকোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ দুই দশক বা প্রায় ২৩ বছর আগে সাদ্দাম হোসেনের পতনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক আগ্রাসনের অবসান ঘটিয়ে আজ বুধবারের মধ্যে ইরাকের ঘাঁটিগুলো থেকে মার্কিন সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। যদিও এই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি মূলত ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলেই নেওয়া হয়েছিল, তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর চূড়ান্ত বাস্তবায়নের অনুমতি দিয়েছেন। ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের এই বিদায়কে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের বড় ভূরাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত আইআরজিসির এই চিঠি সরাসরি সাধারণ মার্কিন ভোটারদের চোখে না পড়লেও, এর ভেতরে থাকা বিষয়গুলো আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবারের নির্বাচনে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে, যা সফল হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন বড় ধরনের বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প নতুন কোনো যুদ্ধে জড়াবেন না এবং মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় এসে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। এই যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। সম্প্রতি রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের উদ্যোগকে সমর্থন করছেন এবং মাত্র ৩৪ শতাংশ নাগরিক ইরানে মার্কিন হামলাকে সমর্থন দিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাত মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের তীব্রতা কমাতে কাতার বর্তমানে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান খুব দ্রুতই নতি স্বীকার করবে। এমন উত্তপ্ত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন ভোটারদের রাজনৈতিক রায় ট্রাম্পের ভাগ্য নির্ধারণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।