যুদ্ধ-নিষেধাজ্ঞায় বিপর্যস্ত ইরানের ওষুধ শিল্প
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক সংঘাতের প্রভাবে ইরানের ওষুধ সরবরাহব্যবস্থা চাপে পড়েছে। কিছু ওষুধের দাম বেড়েছে, ফার্মেসিতে দেখা দিয়েছে সংকট।
আন্তর্জাতিক: দুই দশকের বেশি সময় ধরে মাইক্রোফোন হাতে মানুষের গল্প, খবর আর দেশের নানা ঘটনা তুলে ধরেছেন উগান্ডার সাংবাদিক এডওয়ার্ড রুকিডি কিজানাঙ্গোমা। কিন্তু ৫৬ বছর বয়সে এসে সেই সংবাদকর্মীর নিজের জীবনই এখন খবরের শিরোনাম। উগান্ডার ঐতিহাসিক তোরো রাজ্যের নতুন রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন তিনি। এখন থেকে তাঁর নতুন পরিচয়—রাজা প্রথম এডওয়ার্ড রুকিডি কিজানাঙ্গোমা নিয়াবোঙ্গো।
গত মাসে তোরোর তৎকালীন রাজা চতুর্থ ওয়ে ন্যিম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিডি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ৩৪ বছর বয়সে মারা যান। ১৯৯৫ সালে মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে বসা এই ‘বালক রাজা’র প্রয়াণের পরই খালি হয় তোরোর সিংহাসন। আর সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন রাজপরিবারের উত্তরাধিকার নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্ব ও নাটকের।
তোরো রাজ্যের রাজপরিবারের বাবিতো গোত্রের ২১ সদস্যের একটি কমিটি নতুন রাজা নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করে। রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠদের দাবি, প্রয়াত রাজা ওয়ে একটি শিশুপুত্র রেখে গেছেন এবং উইলে তাকে রাজা করার নির্দেশ ছিল। কিন্তু সেই শিশুকে কখনো প্রকাশ্যে না আনায় এবং প্রয়াত রাজার কোনো আনুষ্ঠানিক স্ত্রী বা সন্তান জনসমক্ষে না থাকায় কমিটি ওই দাবি আমলে নেয়নি।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের একটি অপেশাদার ফুটবল ক্লাবের গোলরক্ষক ও অধিনায়ক প্রিন্স জর্জ ডেসমন্ড কামুরাসিও থাকলেও তিনি দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান। শেষ পর্যন্ত রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ ধারা ও রীতিনীতি মেনেই সাংবাদিক কিজানাঙ্গোমাকে রাজা হিসেবে বেছে নেয় নির্বাচন কমিটি।
রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার আগে মধ্যরাত থেকে বিভিন্ন প্রথাগত আচার পালন করেন কিজানাঙ্গোমা। এরপর প্রায় চার কিলোমিটার হেঁটে ফোর্ট পোর্টালের সরকারি কারুজিকা রাজপ্রাসাদে পৌঁছান তিনি, যেখানে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজা ঘোষণা করা হয়। এই অভিষেক অনুষ্ঠানে উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনি সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
তবে এই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট প্রয়াত রাজা ওয়ের মা রানি বেস্ট কেমিগিসা আকিকি। তিনি একে ‘দ্বিতীয় একজন রাজাকে ঘোষণা’ বলে অভিহিত করে রাজপরিবারের উইলের অবমাননার অভিযোগ তুলেছেন। তা সত্ত্বেও উগান্ডার সরকার ও শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব নতুন রাজাকে সমর্থন জানিয়েছে।
তোরো রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী রাজাদের সরাসরি কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা না থাকলেও সাংস্কৃতিক ও সামাজিকভাবে তাঁদের প্রভূত প্রভাব রয়েছে। নতুন রাজা কিজানাঙ্গোমা রাজকীয় দূরত্ব বজায় না রেখে রাজপ্রাসাদ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। দুই দশকের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা ও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে তিনি তোরো রাজ্যের ঐক্য ও উন্নয়নে কাজে লাগাতে চান। সাধারণ জীবন থেকে রাজদণ্ড হাতে পাওয়ার এই অবিশ্বাস্য রূপান্তর এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।