যুদ্ধ-নিষেধাজ্ঞায় বিপর্যস্ত ইরানের ওষুধ শিল্প
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক সংঘাতের প্রভাবে ইরানের ওষুধ সরবরাহব্যবস্থা চাপে পড়েছে। কিছু ওষুধের দাম বেড়েছে, ফার্মেসিতে দেখা দিয়েছে সংকট।
আন্তর্জাতিক: মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের একটি ব্যস্ত বাজারে দেশটির সামরিক বাহিনীর চালানো ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর রাখাইনে চালানো সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এই নৃশংসতার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক।
গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে রাখাইনের কিয়াউকতাও শহরের একটি ব্যস্ত বাজারে এই বিমান হামলা চালানো হয়। এ সময় বাজারটিতে দুই শতাধিক দোকান খোলা ছিল এবং কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিলেন ক্রেতা-বিক্রেতা, পরিবহনশ্রমিকসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষ। হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবারের এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক বলেন, “সর্বশেষ এই হামলা যুদ্ধের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে।” তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধে জড়িত পক্ষগুলোকে অবশ্যই লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ, আনুপাতিকতা এবং সতর্কতা অবলম্বনের নীতি মেনে চলতে হবে। দেশজুড়ে বেসামরিক মানুষের চরম দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান মিয়ানমারের মধ্যে রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ।
মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মি—উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। দেশটিতে যথেচ্ছ গ্রেপ্তার, নির্যাতন, যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, গুম, জোরপূর্বক শ্রম এবং জোর করে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের ঘটনা প্রকট আকার ধারণ করেছে, যা বিশেষভাবে রোহিঙ্গাদের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে।
এদিকে, মালয়েশিয়া মিয়ানমারের প্রায় পাঁচ হাজার নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করার ঠিক আগের মুহূর্তে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ফলকার টুর্ক মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষকে এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করার কড়া আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক আইনের ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ (জোরপূর্বক ফেরত না পাঠানোর) নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনে জর্জরিত একটি দেশে কাউকে জোর করে ফেরত পাঠানোর সময় এখন নয়। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মতো যেসব দেশ শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অন্য দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।