জর্ডানের ওয়াদি রামে প্রথমবারের মতো হট এয়ার বেলুন স্কাইডাইভিং
জর্ডানের ওয়াদি রাম মরুভূমিতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো হট এয়ার বেলুন স্কাইডাইভিং ও প্যারামোটর কার্যক্রম। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও অ্যাডভেঞ্চার সংবাদ।
আন্তর্জাতিক: ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে গত বুধবার ফ্লাইটের ককপিটে ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অভিযুক্ত সহকারী পাইলট হামাম আল-হাম্মামিকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। উগ্র ও কট্টরপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী হওয়ার কারণে গত বছর ওমানের জাতীয় উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা ‘ওমান এয়ার’ থেকে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাет দিয়ে সিএনএন এই তথ্য জানিয়েছে।
সন্দেহভাজন সহকারী পাইলটের নাম হামাম আল-হাম্মামি। তিনি ওমানের নাগরিক হলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ওমানি এবং মা সিরীয় নাগরিক। লিংকডইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ওমান এয়ারে সাত বছর কাজ করার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চাকরি হারান। এরপর একই বছরের জুন থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত মরক্কোর রয়াল এয়ার মারকে দায়িত্ব পালন করেন। অতি সম্প্রতি তিনি ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দিয়েছিলেন এবং মাত্র আট মাস ধরে সেখানে কাজ করছিলেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে আল-হাম্মামি ‘ইসলামি উগ্র মতাদর্শে দীক্ষা’ নিয়েছিলেন। এছাড়া তাঁর মুছে ফেলা এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, তিনি চরম কট্টর ও নারীবিদ্বেষী মানসিকতার অনুসারী ছিলেন।
ঘটনার প্রায় ৯ ঘণ্টা পর আল-হাম্মামির লিংকডইন ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে দুটি পোস্ট দেওয়া হয় (যা পরে মুছে ফেলা হয়)। প্রথম পোস্টে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজের ককপিট থেকে ধারণ করা ভিডিওর পাশাপাশি আল-কায়েদার সাবেক নেতা ওসামা বিন লাদেন ও জঙ্গি নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির ছবি প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটিতে দুবাই বিমানবন্দরে ইসরায়েলি বিমান সংস্থার (এল আল) উড়োজাহাজের দিকে ক্যামেরা তাক করার দৃশ্যও রয়েছে। দ্বিতীয় পোস্টে এআই-এর সাহায্যে তৈরি মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেম সংযোগকারী একটি ছবি আপলোড করা হয়।
ওমানের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও দেশটির একজন নাগরিক কীভাবে তেল আবিবগামী একটি ফ্লাইটের পাইলট হিসেবে ককপিটে বসার অনুমতি পেলেন, তা নিয়ে বড় ধরনের নিরাপত্তা প্রশ্ন উঠেছে। ইসরায়েলের শিন বেত ও মোসাদসহ যৌথ গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেলও এই হামলার পেছনে কোনো সন্ত্রাসী সংশ্লিষ্টতা বা বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছেন। হামলার শিকার হওয়া ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিথ মছার বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।