যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ করলে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি: হুথিদের
সৌদি আরবের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ করলে পশ্চিম এশিয়ায় থাকা সব মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। আন্তর্জাতিক সংবাদ।
আন্তর্জাতিক: পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে যোগ দেওয়ার জন্য কমপক্ষে ছয়টি দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তবে কৌশলগত ও নিরাপত্তার কারণে এই মুহূর্তে আগ্রহী দেশগুলোর নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ইসহাক দার। পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এই খবর প্রকাশ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইসহাক দার স্পষ্ট করে জানান যে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সম্পূর্ণভাবে আত্মরক্ষামূলক এবং এর কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্য নেই। গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপরই হামলা বলে গণ্য করা হবে। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের (Article 5) সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। জোটটির সদর দপ্তর সৌদি আরবে স্থাপন করা হবে এবং এর প্রথম মহাসচিব হিসেবে পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নুমান মাহমুদকে মনোনীত করা হয়েছে।
সৌদি আরবের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইসহাক দার জানান, দেশটি ইতোমধ্যে ১৭ থেকে ১৮ বার বিভিন্ন হামলার শিকার হয়েছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমরা সৌদি আরবকে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” আগামী সপ্তাহে সৌদি আরবের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও তিনি জানান। জাতিসংঘ সনদ এ ধরনের যৌথ প্রতিরক্ষা জোট গঠনের পূর্ণ অনুমতি দেয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
একই সঙ্গে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জলযান চলাচলের জন্য কোনো ধরনের অতিরিক্ত ফি বা সার্ভিস চার্জ থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া আফগানিস্তান প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কাবুলের প্রতি পাকিস্তানের শুভকামনা থাকলেও তাদের নিশ্চিত করতে হবে যে আফগান ভূখণ্ড যেন কোনোভাবেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহৃত না হয়। বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি), বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এবং ফিতনা আল-হিন্দুস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আফগান প্রশাসনকে প্রমাণ দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।