আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চলছে
রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চলছে। তবে তদন্ত শেষ হতে কত সময় লাগবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউটর। জাতীয় সংবাদ।
ঢাকা: রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের চরম অবহেলা, ভুল চিকিৎসা এবং অতিরিক্ত মাত্রায় (ওভারডোজ) অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের কারণে সাড়ে চার বছর বয়সী শিশু আভানের মৃত্যুর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সামান্য জ্বর ও পেটে ব্যথা নিয়ে সুস্থভাবে হাসাপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুটির এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতাল বিরাজ করছে।
রোববার (৪ অক্টোবর ২০২৬) এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার বিচার দাবি করেছেন নিহতের পরিবার।
নিহত শিশুর বাবা মো. মৃদুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, সামান্য জ্বর ও পেটে ব্যথা নিয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর আভানকে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর চিকিৎসকেরা তাকে ডেঙ্গু রোগী হিসেবে সন্দেহ করে চিকিৎসা শুরু করেন। হাসপাতালে দফায় দফায় রক্ত ও ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো হলেও প্রতিবারই ডেঙ্গু রিপোর্ট ‘নেগেটিভ’ আসে। তবুও ডেঙ্গুর সুনির্দিষ্ট আলামত না থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকরা সেই পথেই চিকিৎসা চালিয়ে যান এবং উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করতে থাকেন।
সন্তান হারানোর শোকে বিলাপ করতে করতে বাবা মৃদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “আমার বাচ্চা সুস্থ বাচ্চা, হেঁটে হেঁটে হাসপাতালে এসেছে। সে খাচ্ছিল, বাসা থেকে আনা খাবার খেয়েছে। অথচ ভুল চিকিৎসা দিয়ে ওরা আমার কলিজার টুকরাকে মেরে ফেলল।”
পরিবারের অভিযোগ, গত ২ অক্টোবর হঠাৎ করেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, শিশুটির পালস পাওয়া যাচ্ছে না এবং তাকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিতে হবে। এ সময় পরিবার শিশুটিকে অন্য কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টালবাহানা শুরু করে এবং বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতির লিখিত কেস সামারি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে কালক্ষেপণ করে।
স্বজনদের ভাষ্যমতে, আইসিইউতে স্থানান্তরের পরও কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সরাসরি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। দায়িত্বপ্রাপ্ত মূল চিকিৎসক মুঠোফোনে দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলেন এবং অনভিজ্ঞ হাতে চিকিৎসা চলছিল। একপর্যায়ে গত ৩ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে শিশু আভানের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর দায় এড়াতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার নথিপত্র ও রিপোর্ট আটকে রাখার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে চাপের মুখে হস্তান্তর করা মেডিকেল ডকুমেন্টে শিশুটির রক্তে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন এবং শক সিন্ড্রোমের প্রমাণ পাওয়া যায়। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে শোকাহত পরিবার।