নানটাকেটের কাছে নিখোঁজ মেডিকেল বিমান, ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার
বারমুডা থেকে বোস্টন যাওয়ার পথে ছয় আরোহীসহ একটি মেডিকেল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নানটাকেটের কাছে নিখোঁজ হয়। পরে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেলেও ছয় আরোহীর সন্ধান এখনো মেলেনি।
আন্তর্জাতিক: ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হুথি বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক সামরিক হামলা চালানোর দাবি করেছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার। গত ২৪ ঘণ্টায় ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, যুদ্ধবিমান, কামান ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করে ২৫৭টি ‘নির্ভুল হামলা’ চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। এসব হামলায় অন্তত ৭০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
ইয়েমেনের তাইজ শহর ও এর আশপাশের এলাকাকে সাম্প্রতিক সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা শহরটির বিভিন্ন ফ্রন্টে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে।
ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি জানিয়েছেন, হুথিদের অবস্থান, চলাচল ও সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করা হয়।
আল-নাজিলির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক হিসাবে হামলায় অন্তত ৭০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ১৭০টি যুদ্ধযান ও ভারী সামরিক সরঞ্জামসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।
তবে সরকারি বাহিনীর পক্ষ থেকে নিজেদের হতাহতের কোনো সংখ্যা জানানো হয়নি। হুথিদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে এসব দাবির বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে ইয়েমেন সরকারের সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, হুথিদের বিরুদ্ধে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫০০টি সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ১ হাজার ৫৪০ জন হুথি যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
তাঁর দাবি, এসব হতাহতের বড় অংশই ঘটেছে তাইজ প্রদেশে। সেখানে সরকারি বাহিনী হুথিদের অগ্রযাত্রা প্রতিহত করেছে বলে জানানো হয়।
সাম্প্রতিক লড়াইয়ের মধ্যে সরকার তাইজের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথও বন্ধ করে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদক মাহা আলীর তথ্য অনুযায়ী, তাইজ শহরের আশপাশের বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। শহরের পশ্চিম প্রান্তে লড়াই সবচেয়ে তীব্র।
হুথিরা পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক গোলাবর্ষণ করছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানানো হয়েছে। গোলাবর্ষণের শব্দ এখনও বিভিন্ন এলাকা থেকে শোনা যাচ্ছে।
নিরাপত্তার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। সংঘর্ষে বেসামরিক মানুষও হতাহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তাইজের ধুবাব এলাকায় একটি আবাসিক স্থানে গোলার আঘাতে এক শিশু নিহত হয়েছে বলে আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গোলার টুকরার আঘাতে শিশুটির মৃত্যু হয়।
এ ছাড়া সামা ফ্রন্টের পাহাড়ি এলাকায় গত শুক্রবার হুথিরা অগ্রসর হওয়ার পর সেখানে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। মাঠপর্যায়ের কয়েকটি সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, সামা এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা ইতোমধ্যে অন্যত্র চলে গেছেন।
স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকেরও বেশি সময়ে ইয়েমেনে এত বড় পরিসরে মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা খুব কমই দেখা গেছে।
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ তীব্র হয়। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিক অভিযান শুরু করে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সহিংসতা তুলনামূলকভাবে কমলেও দেশটিতে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান হয়নি।
তাইজসহ বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সংঘর্ষের তীব্রতা আবারও ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশেষ করে বেসামরিক হতাহত ও মানুষের নতুন করে বাস্তুচ্যুতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।