আন্তর্জাতিক: বারমুডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন যাওয়ার পথে আটলান্টিক মহাসাগরে নিখোঁজ হওয়া একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছে মার্কিন কোস্টগার্ড। তবে ধ্বংসাবশেষের সন্ধান মিললেও বিমানে থাকা রোগী, তার এক স্বজন এবং চার পাইলটসহ মোট ছয় আরোহীর এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি। তাদের উদ্ধারে তল্লাশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর ২০২৬) সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সূত্রের বরা୍তে এই তথ্য জানা গেছে। এর আগে শনিবার ভোরে ম্যাসাচুসেটসের নানটকেট দ্বীপের কাছে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ফ্লাইট-সংক্রান্ত তথ্যানুযায়ী, শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে গালফস্ট্রিম জি১০০ মডেলের ওই মেডিকেল বিমানটির পক্ষ থেকে বৈদ্যুতিক ত্রুটির কথা জানানো হয়েছিল। এর পরপরই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটার তথ্য অনুযায়ী, মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে বিমানটি কয়েক হাজার ফুট নিচে নেমে যায় এবং একপর্যায়ে রাডারের সঙ্গে সেটির পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা পাইলটের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে জানতে চেয়েছিলেন, বিমানটিতে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা হচ্ছে কি না। কিন্তু পাইলটের কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।
নিহত বা নিখোঁজদের পরিচয় সূত্রে জানা যায়, বিমানটিতে বারমুডার এক রোগী ও তার স্বজন ছাড়াও চার ক্রু সদস্য ছিলেন, যারা সবাই কানাডার নাগরিক। মার্কিন কোস্টগার্ড জানিয়েছে, বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম ২৭ ঘণ্টায় প্রায় ১ হাজার ৬৪৪ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে উদ্ধার তল্লাশি চালানো হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার পর নিখোঁজ ছয় আরোহীর সন্ধানে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বারমুডার প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বার্ট নিখোঁজদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। পাশাপাশি অলৌকিকভাবে হলেও ছয় আরোহীকে নিরাপদে ফিরে পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।