ঢাকা: ফল, ভোজ্যতেল ও ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সরকার নির্ধারিত দামে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী বিশেষ তদারকি অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঢাকা মহানগরসহ দেশের ৩০টি জেলায় একযোগে পরিচালিত এই অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১০২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর ২০২৬) অধিদপ্তরের মোট ৪৪টি টিম এই অভিযান পরিচালনা করে।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নিত্যপণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা, অহেতুক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধ এবং গ্যাস সিলিন্ডারের অতিরিক্ত দাম আদায় বন্ধ করাই এই বিশেষ তদারকির মূল উদ্দেশ্য। অভিযান চলাকালে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন, সঠিক ওজন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে যাচাই করা হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে ঢাকার সাভারের আমতলা ও কুটুরিয়া বাজারের দুটি এলপি গ্যাস ডিলার পয়েন্টে বড় ধরনের অনিয়মের প্রমাণ মেলে। অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে ‘হাজী আব্দুর রহমান এন্টারপ্রাইজ’কে ১০ হাজার টাকা এবং ‘ইকবাল এন্টারপ্রাইজ’কে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে যথাযথভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ না করা, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি এবং বিশেষ পাইপের মাধ্যমে গ্যাস স্থানান্তর করে ওজনে কারচুপির গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে কারচুপিতে ব্যবহৃত বিশেষ পাইপ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিল-স্টিকার জব্দ করা হয়।
তদারকিকালে ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মজুদ এবং পণ্য সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া ফল ব্যবসায়ীদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দামে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি পচা বা নষ্ট ফল ভালো ফলের সঙ্গে না মেশাতে এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অননুমোদিত পদার্থ ব্যবহার না করতে সতর্ক করা হয়েছে।
ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় পণ্য কেনার সময় মূল্যতালিকা যাচাই, সঠিক ওজন বুঝে নেওয়া এবং সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। গ্যাস সিলিন্ডার কেনার সময় ওজন, সিল ও দৃশ্যমান ত্রুটি পরীক্ষার পাশাপাশি অবশ্যই ক্রয়ের রশিদ বা ভাউচার সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। বাজারে শৃঙ্খলা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। কোনো অনিয়মের শিকার হলে হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।