আন্তর্জাতিক: ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অপরাধে সৌদি আরবের একটি আদালত ২৪ বছর বয়সী শ্রীলঙ্কান অভিবাসী শ্রমিক আনোজন সিভারাসাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এই রায়ের পর তাঁর জীবন রক্ষা করতে এবং তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল মিনতি ও ক্ষমার আবেদন জানিয়েছে আনোজনের পরিবার।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আল-আহসা ফৌজদারি আদালত প্রাথমিকভাবে সাইবার অপরাধ আইনে আনোজনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করেছিল। তবে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি প্রসিকিউটরদের আবেদনের ভিত্তিতে আপিল আদালত সাইবার আইনের পরিবর্তে শরিয়া আইনে বিচার পরিচালনা করে তাঁর সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করে।
এরপর গত ২১ সেপ্টেম্বর আনোজনের পরিবারের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিশানায়েকে। তিনি সরকারি উদ্যোগে সৌদি রাজদরবারে রাজক্ষমা চাওয়ার জোরালো আশ্বাস দেন। এছাড়া একই উদ্দেশ্যে শ্রীলঙ্কার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী উপুল কুমারাপ্পেরুমার নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি আইনি দল বর্তমানে সৌদি আরব সফর করছে।
শ্রীলঙ্কায় একটি হিন্দু তীর্থযাত্রার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর সৃষ্ট ধর্মীয় বিতর্ককে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। সেখানে এক ব্যক্তি হিন্দু দেবতা নিয়ে কটূক্তি করলে আনোজন তার জবাবে তামিল ভাষায় মহানবী (সা.)-কে নিয়ে মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে নিজের ভুল বুঝতে পেরে তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন এবং ক্ষমাও চান। কিন্তু শ্রীলঙ্কা থেকে কিছু লোক তাঁর কর্মপ্রতিষ্ঠানে ইমেইল পাঠিয়ে বিষয়টি জানালে, তাঁর নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সঙ্গে সঙ্গে সৌদি পুলিশকে অবহিত করে। এর জেরে গত জুলাই মাসে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং গত ২৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে আনোজনের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
আনোজনের দণ্ড মওকুফের জন্য শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মীয় নেতারা যৌথভাবে আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা সরকার কূটনৈতিকভাবে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং অ্যালকোয়েস্ট অনলাইনের বাকস্বাধীনতার ওপর সৌদি সরকারের এমন কঠোর সাজা দেওয়ার বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM)-এর তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে প্রায় ১ কোটি বিদেশি শ্রমিক কাজ করছেন, যারা প্রায়শই ভাষা সংকট ও আইনি সহায়তার অভাবে দেশটির কঠোর বিচারব্যবস্থায় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।