কঙ্গোতে ইবোলার থাবা: আড়াই মাসে মৃত্যু সাড়ে ১৩ শ ছাড়াল
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা মহামারির রূপ ধারণ করেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে এই মারণ ভাইরাসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে…
দীর্ঘদিনের জটিল রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে এক নতুন ও ইতিবাচক সম্ভাবনার বার্তা দিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে মালয়েশিয়া থেকেও প্রাথমিকভাবে পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনে সম্মতি দিয়েছে দেশটি।
গত বুধবার (২৯ জুলাই) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন বলে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে-র প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এই উদ্যোগকে দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট নিরসন এবং নিজের দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
মিয়ানমারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন:
সাধারণ মানুষ বলে ওদের ফেরত পাঠাও। কিন্তু আমরা পাঠাব কোথায়? মিয়ানমার তো এতদিন ওদের নিতেই চায়নি। এ কারণেই দেশটির সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখাটা জরুরি ছিল। এখন তারা প্রথম দফায় মালয়েশিয়া থেকে পাঁচ হাজার জনকে নিতে সম্মত হয়েছে।
তবে বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি পাওয়া গেলেও এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ঠিক কবে থেকে শুরু হবে কিংবা এর সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা আছে কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যের একটি আবাসন ছেড়ে শতাধিক রোহিঙ্গা কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন তাদের বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়। এই ঘটনার পরপরই মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের এই ঘোষণা এলো।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনীর বর্বর নিপীড়ন ও নৃশংসতার মুখে প্রাণ বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরের বিভিন্ন ক্যাম্পে ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। দীর্ঘদিন ধরে নিজ দেশে ফেরার সুস্পষ্ট রূপরেখা না থাকায় অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে করে সাগরপথে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় ঢোকার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। আঞ্চলিক এই মানবিক সংকট নিরসনে মিয়ানমারের ওপর দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় চাপ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে মালয়েশিয়া।