পাকিস্তানের কাছে হেরে এশিয়ান গেমসে পদকশূন্য বাংলাদেশ
এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেটের ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ১৪৫ রানের জবাবে ১১৪ রানে থামে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।
ক্রীড়া: ম্যাচ-ফিক্সিং, আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে নতুন সংকটে পড়েছে নেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএনএফএ)। দেশটির সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (সিআইবি) এএনএফএর কোষাধ্যক্ষ রবীন্দ্র জোশি ও হিসাব কর্মকর্তা সঞ্জীব পান্ডেকে গ্রেপ্তার করেছে।
সিআইবি জানিয়েছে, খেলায় অনিয়ম, আর্থিক অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের একটি চিঠি এবং পৃথক একটি অভিযোগের পর তদন্ত শুরু হয়।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডুর সাতদোবাতোতে এএনএফএর সদর দপ্তরে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন নথি, ল্যাপটপ, সিপিইউসহ ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করে তদন্তকারীরা। এসব সরঞ্জাম ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
ললিতপুর জেলা আদালত জোশি ও পান্ডেকে আরও চার দিন হেফাজতে রেখে তদন্তের অনুমতি দিয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
তদন্তের অন্যতম বিষয় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ও ২০২৭ এএফসি এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইপর্বে নেপাল ও বাহরাইনের মধ্যকার দুটি ম্যাচ।
‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ পদ্ধতিতে একটি ম্যাচ নেপালে এবং অন্যটি বাহরাইনে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুটি ম্যাচই বাহরাইনের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। এএনএফএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য, কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামের মাঠ আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের উপযোগী না হওয়ায় এএফসি সেখানে ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি দেয়নি।
পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে কোনো আর্থিক অনিয়ম হয়েছিল কি না। তদন্তকারীদের দাবি, বাহরাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে নেপালের পাওনা ২০ হাজার ডলার দেওয়ার কথা ছিল। ওই অর্থ পাওয়া গেছে কি না এবং এএনএফএর ব্যাংক হিসাবগুলোতে এর কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।
বাহরাইনের বিপক্ষে ম্যাচ দুটিতে নেপাল প্রথমটি ৫-০ এবং দ্বিতীয়টি ৩-০ গোলে হারে। তবে তদন্ত চললেও এসব ম্যাচকে এখনো পাতানো ম্যাচ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
এএনএফএর খেলোয়াড়দের জার্সি ও কিট কেনাকাটার বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে। বিশেষ করে কেলমি (Kelme) ও কেটিএম সিটি (KTM City) ব্র্যান্ডের পোশাক ও সরঞ্জাম কেনার প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখছে সিআইবি।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, কেলমির পোশাক সরাসরি কেনা হয়েছিল কি না এবং এ ক্ষেত্রে প্রচলিত দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত নথিও তদন্তকারীরা পরীক্ষা করছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির বিষয়েও অভিযোগ পেয়েছে সিআইবি। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের জন্য এএনএফার কাছে ৩৩০টি টিকিট বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে পর্তুগাল ও স্পেনের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট প্রকাশ্যে বিক্রির জন্য দেওয়া হয়েছিল কি না এবং পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ম মেনে হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এএনএফার আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এর আগেও অভিযোগ ও তদন্ত হয়েছে। নেপালের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ দুটি তদন্ত উপকমিটি গঠন করেছিল। সেসব তদন্তে কেনাকাটার ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয় উঠে আসে বলে নেপালি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইবি তদন্ত শুরু করে।
ফলে দুই কর্মকর্তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে নেপাল ফুটবলের প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা বা দায় কারও বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।