জাকসু নির্বাচনের অনিয়ম তদন্ত ও নতুন তফসিলের দাবি ছাত্র ইউনিয়নের
জাকসু নির্বাচন-২০২৫ ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং দ্রুত নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন।
শিক্ষাঙ্গন: দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শৃঙ্খলাভঙ্গ, সহকর্মীকে মারধর, জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার, বিধিবহির্ভূত নিয়োগ ও সরকারি নথি জালিয়াতির অভিযোগে ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পৃথক প্রজ্ঞাপন ও কারণ দর্শানোর নোটিশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নেওয়া সম্ভাব্য প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। নোটিশে অভিযুক্তদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার ইবতেদায়ী শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে সহকর্মী খাইরুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাঙ্গীর হোসেন ওই শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেছেন। এ ঘটনায় ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬’-এর ১৮.২ (ক) অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একই ঘটনায় মাদ্রাসাটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহ আলমের বিরুদ্ধেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনায় তাঁর যোগসাজশ এবং দায়িত্ব পালনে অদক্ষতা ও অযোগ্যতার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কুমিল্লার দাউদকান্দি মদিনাতুল উলুম ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমীনের বিরুদ্ধেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের নির্দেশ ও সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে তাঁকে নোটিশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানাতে বলা হয়েছে।
ভোলার চরফ্যাশনের দক্ষিণ চরআইচা রাব্বানিয়া আলিম মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেনের নিয়োগের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর এমপিও স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিয়োগের ক্ষেত্রে বিধি লঙ্ঘন হয়েছিল কি না, তা যাচাই করছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
নীলফামারীর জলঢাকার গোলনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অধিদপ্তরের নথি অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে তাঁর নিয়োগ তৎকালীন এমপিও জনবল কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
এ কারণে প্রথম এমপিওভুক্তি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি অর্থে নেওয়া বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর এমপিও বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
একই মাদ্রাসার প্রভাষক হোসাইন আহমেদের বিরুদ্ধে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ এবং সরকারি কাগজপত্র জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অধিদপ্তরের নোটিশে বলা হয়েছে, তদন্তে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাঁর এমপিও স্থগিতের পাশাপাশি ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে এমপিও নেওয়ার অভিযোগে গাজীপুর ও ময়মনসিংহের তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নিবন্ধন সনদ ভুয়া হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর তাঁদের এমপিও ইনডেক্স কেন কর্তন করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
গাজীপুরের কাপাসিয়ার বিবাদীয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ইবতেদায়ী শিক্ষক মো. আফজাল হোসেনের ১৬তম নিবন্ধন এবং একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক লুৎফুন নাহারের ১৩তম নিবন্ধন সনদ নিয়ে আপত্তি উঠেছে।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহের ত্রিশালের বীররামপুর জান্নাতুল উলুম আলিম মাদ্রাসার ইবতেদায়ী প্রধান শামিমা নাছরিনের ষষ্ঠ শিক্ষক নিবন্ধন সনদও ভুয়া হিসেবে শনাক্ত হয়েছে বলে এনটিআরসিএর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁদের এমপিও ইনডেক্স কেন কর্তন করা হবে না, নোটিশে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নোটিশে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁদের জবাব পাওয়ার পর নথিপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেওয়া কার্যক্রমকে চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না। তাঁদের লিখিত জবাব ও পরবর্তী তদন্তের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।