চীনের কিংদাওয়ে কার্গো জাহাজে ভয়াবহ আগুন, ২০ জন নিহত ও নিখোঁজ ৫
চীনের কিংদাওয়ে শিপইয়ার্ডে কার্গো জাহাজে আগুন লেগে ২০ জন নিহত ও ৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। জাহাজটি মেরামতের কাজ চলছিল।
আন্তর্জাতিক: যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও চীন থেকে ওষুধ, গাড়ি, যোগাযোগ সরঞ্জাম এমনকি সামরিক সরঞ্জামও দেদারছে আমদানি করছে ইরান। আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে তেলের বিনিময়ে চালুকৃত এক গোপন ‘ক্রেডিট’ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই অসম্ভব বাণিজ্য সফল করছে তেহরান। বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি পরিচিত জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সূত্রের বরাote রয়টার্স জানিয়েছে, গোপন এই ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো তেলের বিনিময়ে পণ্য আমদানি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়াশিংটনের তরফ থেকে তেহরানের ওপর চাপ মারাত্মকভাবে বাড়লেও, এই বিকল্প ব্যবস্থা ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক রসদ সচল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এই গোপন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ চীনও ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা অত্যন্ত কম দামে ইরানি তেল কেনার সুযোগ পাচ্ছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানের সমুদ্রপথে পাঠানো মোট তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনেছে বেইজিং। ওই বছর চীনে ইরানের তেল রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল। এছাড়া, ইরানে পণ্য সরবরাহকারী চীনা কোম্পানি ও ব্যাংকগুলো যাতে আন্তর্জাতিক নজরদারি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে না পড়ে, সেটিরও চমৎকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে এই সিস্টেমে।
আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক বা সুইফট (SWIFT) ব্যবহার না করে একাধিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ও বিশেষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই বাণিজ্য পরিচালনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ‘ঝুহাই ঝেনরং’-এর সঙ্গে যুক্ত একজন ক্রেতা প্রতি মাসে শত শত মিলিয়ন ডলার চীনের একটি তুলনামূলক অখ্যাত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘চুশিন’-এ জমা রাখেন।
এই অর্থের একটি বড় অংশ ইরানি অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যয় করা হয় এবং বাকি অর্থ একটি ‘স্পেশাল পারপাস ভেহিকল’ বা SPV-তে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে ইরানমুখী পণ্য সরবরাহকারী চীনা কোম্পানিগুলোর পাওনা পরিশোধে এই অর্থ ব্যবহার করা হয়। সূত্রগুলোর হিসাব অনুযায়ী, বিগত এক বছরে এই SPV-এর মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি থেকে ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার প্রবাহিত হয়েছে।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমেই মূলত ইরান চীন থেকে ওষুধ, গাড়ি, যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত একবার কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানির চুক্তি সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এসব লেনদেন শতভাগ যাচাই করতে পারেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চাপ এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার হুমকিকে বেইজিং যে বিন্দুমাত্র পরোয়া করে না, তা প্রমাণ করতেই এই কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মনে করেন এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাষক আন্দ্রেয়া ঘিসেল্লি। তবে একই সঙ্গে চীনের নেতারা তাঁদের মূল ব্যাংক ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চান না। তাই তারা এমন একটি ধোঁয়াশাপূর্ণ ব্যবস্থা বজায় রেখেছেন, যাতে প্রয়োজনে যেকোনো লেনদেনের দায় অস্বীকার করার সুযোগ থাকে।
এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সকে জানিয়েছে, প্রতিবেদনে বর্ণিত এই বিশেষ ব্যবস্থার বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা নেই। তবে আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিহীন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনহীন যেকোনো একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার শুরু থেকেই তীব্র বিরোধিতা করে আসছে বেইজিং।
এদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক সক্ষমতার লাগাম টানতে ওয়াশিংটন যখন একের পর এক অর্থনৈতিক নোড়াকড়ো আরোপ করে চলেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে তেহরান ও বেইজিংয়ের মধ্যকার এই গোপন লেনদেন ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।