গত ষোলো বছরের শাসনামলে ক্রসফায়ারের অজুহাতে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক উৎসব ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে এ বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে কেবল বিচারবহির্ভূত হত্যাই নয়, ৭০০-র বেশি মানুষকে গুম করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভিন্ন মতাবলম্বী ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দমন করতে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষের নামে অবাস্তব ও গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছিল।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান হুট করে ঘটা কোনো বিষয় ছিল না। এটি ছিল বিগত ১৬ বছরের জুলুম, নিপীড়ন ও আত্মত্যাগের এক চূড়ান্ত ও যৌক্তিক পরিণতি। যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, গুমের শিকার হয়েছেন কিংবা রাজনৈতিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন—তাদের ধারাবাহিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই এই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সাফল্য পেয়েছে।
বিগত শাসনকালের মামলার চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, মৃত ব্যক্তি, বিদেশে অবস্থানরত হজযাত্রী এমনকি শারীরিক প্রতিবন্ধীদের বিরুদ্ধেও বোমা হামলার মতো হাস্যকর অভিযোগ এনে মামলা দেওয়া হয়েছে। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা এখনও প্রিয়জনের ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
সংস্কৃতি চর্চা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি জানতে পারেন যে আবৃত্তি শিল্প হিসেবে কোনো আলাদা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছিল না। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইন সংশোধন করে গান ও নাচের মতো আবৃত্তিলিপিকে সংস্কৃতির একটি স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে আবৃত্তিশিল্পীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।