চলতি মাসেই কি বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন পূজা চেরী? গুঞ্জনে নতুন তারিখ
ঢালিউড অভিনেত্রী পূজা চেরীর বিয়ে নিয়ে নতুন গুঞ্জন উঠেছে। একাধিক সূত্রের দাবি, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে পারে তাঁর।
বিনোদন: ঢাকাই চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা ও অমর নায়ক সালমান শাহ। ক্যারিয়ারে মাত্র ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে মাত্র ২৫ বছর বয়সে বাংলা চলচ্চিত্রে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা এই নায়কের অকালবিদায় আজও রহস্যের চাদরে ঘেরা। মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তাঁর জীবনের শেষ সময়ের ঘটনাবলি নিয়ে মানুষের আগ্রহ ও কৌতূহলের অন্ত নেই। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর—অর্থাৎ মৃত্যুর ঠিক আগের দিন এফডিসিতে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
সেসময়ে জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে ১৪টি চলচ্চিত্রে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছিলেন সালমান শাহ। একসঙ্গে এতগুলো সিনেমায় অভিনয়ের সুবাদে সেই সময় তাঁদের ঘিরে প্রেমের গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়েছিল। আর এই গুঞ্জনের জেরে সালমানের স্ত্রী সামিরা হকের সঙ্গে তাঁর মনমালিন্যের সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানা যায়।
১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এফডিসির সাউন্ড কমপ্লেক্সে ‘প্রেম পিয়াসী’ সিনেমার ডাবিংয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন সালমান শাহ ও নায়িকা শাবনূর। ডাবিংয়ের ফাঁকে দুজনের মধ্যে খুনসুটির মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। ওই সময় সালমান তাঁর বাবাকে ফোন করে স্ত্রী সামিরাকে এফডিসিতে নিয়ে আসতে বলেন। সালমানের বাবা সামিরাকে নিয়ে সেখানে পৌঁছানোর পর ডাবিং রুমে সালমান ও শাবনূরকে একসঙ্গে দেখে মনঃক্ষুণ্ন হন সামিরা। পরবর্তী সময়ে এক সাক্ষাৎকারে সামিরা নিজেই জানিয়েছিলেন যে, শাবনূরের সঙ্গে সালমানের ঘনিষ্ঠ আচরণ তাঁর ভালো লাগেনি এবং তিনি রাগ করে এফডিসি ত্যাগ করেছিলেন।
সেদিন গাড়ি করে ফেরার সময় পরিচালক বাদল খন্দকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছিলেন। এফডিসির প্রধান ফটকের কাছে পৌঁছালে সালমান ও বাদল খন্দকার গাড়ি থেকে নেমে যান এবং সালমান পরে আবার ডাবিং রুমে ফিরে যান। যদিও সেদিন আর ডাবিং হয়নি এবং রাতে পরিচালক বাদল খন্দকার সালমানকে নিউ ইস্কাটন রোডের বাসায় পৌঁছে দেন।
পরের দিন অর্থাৎ ৬ সেপ্টেম্বর সকালে ছবির শিডিউল নিয়ে কথা বলতে সালমানের বাসায় গিয়ে পরিচালক বাদল খন্দকার দেখতে পান, বাসার নিচে দারোয়ানরা কানাকানি করছেন যে সালমান রাতে আত্মহত্যা করেছেন। সালমানের পরিবারের পক্ষ থেকে বরাবরই তাঁকে ‘হত্যার’ অভিযোগ তোলা হয়েছে এবং স্ত্রী সামিরার দিকে সন্দেহের আঙুল তোলা হলেও সামিরা সবসময় তা অস্বীকার করে মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলেই দাবি করে আসছেন। ‘সুজন সখী’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘আনন্দ অশ্রু’-র মতো কালজয়ী ছবির এই নায়কের প্রয়াণ আজও ঢাকাই চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় রহস্য হয়ে রয়েছে।