হুথি হামলায় সৌদি আরবে ৭৩ বেসামরিক নাগরিক আহত
দক্ষিণ সৌদি আরবের আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরানে হুথি হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন বলে দাবি সৌদি জোটের।
আন্তর্জাতিক: পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রস্তাবিত নিরাপত্তা কাঠামোয় ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তেহরানের অংশগ্রহণ উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের বক্তব্যের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মস্কো স্টেট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসের (এমজিআইএমও) শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে এক বৈঠকে ল্যাভরভ বলেন, পারস্য উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় ইরানকে যুক্ত করা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব পদক্ষেপ হতে পারে।
ল্যাভরভ জানান, প্রায় দুই দশক আগে রাশিয়া আরব রাজতন্ত্র ও ইরানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিয়ে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল।
রাশিয়ার ধারণা অনুযায়ী, আরব লীগ, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যকে একটি বৃহত্তর কাঠামোর আওতায় যুক্ত করা গেলে উপসাগরীয় অঞ্চলের জটিল নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সম্পর্ক মোকাবিলা করা সম্ভব হতে পারে।
ল্যাভরভের মতে, এ ধরনের বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ঘটনাটিও স্মরণ করেন। কয়েক বছর আগে চীন ও রাশিয়ার সক্রিয় মধ্যস্থতায় তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে নতুন পরিবর্তন এসেছে বলে উল্লেখ করেন ল্যাভরভ।
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রস্তাবিত ‘মক্কা চুক্তি’র প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, এটি যৌথ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি সম্ভাব্য রূপরেখা।
ল্যাভরভ বলেন, মিশর বা আলজেরিয়ার মতো দেশগুলোর পাশাপাশি ইরানকেও যদি এই উদ্যোগে অন্তর্ভুক্ত করার উপযুক্ত কাঠামো তৈরি করা যায়, তাহলে তা রাশিয়ার দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ধারণার সবচেয়ে কার্যকর বাস্তবায়ন হতে পারে।
তবে এই প্রক্রিয়ায় রাশিয়া কোনো নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা দাবি করবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা।
রাশিয়ার এই প্রস্তাব এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করার রুশ আহ্বান আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।