ব্রিকসের নৈশভোজে গান গেয়ে মুগ্ধতা ছড়ালেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী
ব্রিকসের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে কিংবদন্তি কিশোর কুমারের জনপ্রিয় গান ‘খোয়াব হো তুম’ গেয়ে উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
আন্তর্জাতিক: ইরানের সঙ্গে চলমান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ বন্ধ এবং প্রেসিডেন্টের একচ্ছত্র সামরিক ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে তৃতীয়বারের মতো একটি যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। মঙ্গলবারের (১৫ সেপ্টেম্বর) এই ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটির পক্ষে ২২০ এবং বিপক্ষে ২০৪ ভোট পড়ে।
প্রস্তাবটির পক্ষে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের পাশাপাশি সাতজন রিপাবলিকান সদস্যও ভোট দিয়েছেন, যার মধ্যে তিনজন রিপাবলিকান এই প্রথমবার এমন উদ্যোগকে সমর্থন করলেন। এর ফলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষমতা বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়ল।
আইওয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জ্যাক নান মন্তব্য করেছেন যে, আলোচনার সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কোনো যুদ্ধ চালিয়ে যেতে অবশ্যই কংগ্রেসের পূর্বানুমোদন নেওয়া উচিত। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রস্তাবটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দপ্তরে পৌঁছালে তিনি এতে ভেটো দিতে পারেন। এর আগে জুন ও জুলাই মাসে প্রতিনিধি পরিষদে এমন প্রস্তাব পাস হলেও তা চূড়ান্ত রূপ পায়নি।
অন্যদিকে, ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ব্রায়ান মাস্ট এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন চিরস্থায়ী যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দশককালের সংঘাতের ইতি টানতে কাজ করছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ ইস্যুটি মার্কিন রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আগামী ৫০ দিনেরও কম সময়ে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এদিকে নির্দলীয় কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, বিগত ছয় মাসের এই সংঘাতে মার্কিন সরকারের প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। যুদ্ধ চলমান থাকলে প্রতি মাসে অতিরিক্ত প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। পাশাপাশি, এই যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশটির অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুতেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার এখতিয়ার একমাত্র কংগ্রেসের হাতে থাকলেও, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে প্রেসিডেন্ট কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন। তবে ভিয়েতনাম যুদ্ধ-পরবর্তী যুদ্ধক্ষমতা আইন অনুযায়ী, ৬০ দিনের বেশি দীর্ঘমেয়াদি অভিযান চালাতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।