ব্রিকসের নৈশভোজে গান গেয়ে মুগ্ধতা ছড়ালেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী
ব্রিকসের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে কিংবদন্তি কিশোর কুমারের জনপ্রিয় গান ‘খোয়াব হো তুম’ গেয়ে উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
আন্তর্জাতিক: ইরানে চলমান সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অংশগ্রহণ সীমিত করতে একটি ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ পাস করেছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ২২০-২০৪ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়।
এটি ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে তৃতীয়বারের মতো এমন প্রস্তাব পাসের ঘটনা। প্রস্তাবটির উদ্দেশ্য হলো, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করা।
ভোটাভুটিতে সব ডেমোক্র্যাট সদস্যের পাশাপাশি সাতজন রিপাবলিকান সদস্যও প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। এর মধ্যে আইওয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জ্যাক নানও রয়েছেন। ভোটের পর নান বলেন, আলোচনার সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযান চালাতে হলে এখন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। তিনি ‘আরেকটি অনির্দিষ্টকালীন যুদ্ধের’ পক্ষে নন বলেও জানান।
তবে প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছেন ফ্লোরিডার রিপাবলিকান প্রতিনিধি ব্রায়ান মাস্ট। তাঁর বক্তব্য, ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিনের এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে চাইছেন।
প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটি পাস হলেও এটি এখনই আইনে পরিণত হচ্ছে না। এর আগেও প্রতিনিধি পরিষদে একই ধরনের দুটি প্রস্তাব পাস হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছায়নি। সাম্প্রতিক প্রস্তাবটিও প্রেসিডেন্টের ডেস্কে গেলে ভেটোর মুখে পড়তে পারে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করেন। এরপর প্রায় সাত মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত এবং পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এ সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকাতেও উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসের বাজেট অফিসের (সিবিও) হিসাব অনুযায়ী, ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। সংঘাতের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে প্রতি মাসে আরও প্রায় ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। সিবিও আরও হিসাব করেছে, যুদ্ধের প্রভাবে ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় প্রায় ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি হতে পারে।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে কিছু সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর প্রণীত War Powers Resolution প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতার ওপর সময়সীমা ও কংগ্রেসের নজরদারির কাঠামো নির্ধারণ করে। দীর্ঘস্থায়ী সামরিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
প্রতিনিধি পরিষদের এবারের ভোট তাই ইরান যুদ্ধে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা এবং কংগ্রেসের সাংবিধানিক ভূমিকা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও সামনে এনেছে।