তেহরানে ‘ইরানের জন্য আত্মত্যাগ’ শোভাযাত্রা, অংশ নিলেন লাখো মানুষ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে তেহরানে ‘জানফাদা-ই-ইরান’ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এতে ৩ লাখ ১৩ হাজার মানুষ অংশ নেন।
আন্তর্জাতিক: যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সি পুরুষ সেনাসদস্যদের টেস্টোস্টেরন ঘাটতি শনাক্তে বাধ্যতামূলক পরীক্ষার কর্মসূচি আবারও চালু করেছে পেন্টাগন। চলতি মাসের শুরুতে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে হালনাগাদের পর বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নতুন ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জুলাইয়ে প্রথম এ নীতি ঘোষণা করেছিলেন। পেন্টাগনের ভাষ্য, এর লক্ষ্য হলো সেনাসদস্যদের সম্ভাব্য টেস্টোস্টেরন ঘাটতি শনাক্ত ও প্রয়োজন হলে চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য, শারীরিক সক্ষমতা এবং সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখা।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সি সব পুরুষ সেনাসদস্যের পর্যায়ক্রমিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন, সামরিক বাহিনীতে যোগদানের সময় অথবা বার্ষিক শারীরিক পরীক্ষার অংশ হিসেবে টেস্টোস্টেরন ঘাটতির স্ক্রিনিং করা হবে। ৩০ বছরের কম বয়সিরাও উপসর্গ থাকলে বা চিকিৎসাগত প্রয়োজন বিবেচনায় পরীক্ষা করাতে পারবেন।
পেন্টাগনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষায় টেস্টোস্টেরন ঘাটতি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট সেনাসদস্য ও চিকিৎসক মিলে চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বা অন্য হরমোনভিত্তিক চিকিৎসার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
হেগসেথের ভাষ্য, এই উদ্যোগ কৃত্রিমভাবে সেনাসদস্যদের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নয়; বরং স্বাভাবিক শারীরিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সামরিক দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয় শারীরিক ভিত্তি নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য।
পেন্টাগন এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতে একই কর্মসূচির ক্লিনিক্যাল নির্দেশনা প্রকাশ করেছিল। কিন্তু এক দিনের মধ্যেই সেটি ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তখন একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, প্রকাশিত নথিটি হালনাগাদের জন্য সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা প্রকাশের মাধ্যমে সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে নতুন সংস্করণে কর্মসূচিটি বর্তমানে পুরুষ সেনাসদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। নারী সেনাসদস্যদের জন্য স্ক্রিনিং ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত আলাদা নির্দেশনা পরে প্রকাশ করা হবে বলে পেন্টাগন জানিয়েছে।
কর্মসূচিটি নিয়ে চিকিৎসাবিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের মতে, কোনো উপসর্গ না থাকা ব্যক্তিদের নিয়মিত টেস্টোস্টেরন স্ক্রিনিং প্রচলিত চিকিৎসা-পদ্ধতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। টেস্টোস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই ওঠানামা করতে পারে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে এর মাত্রা কমাও স্বাভাবিক।
এ ছাড়া টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির কিছু ঝুঁকি রয়েছে। পেন্টাগনের নিজস্ব রোগী-তথ্য নথিতেও বলা হয়েছে, এ ধরনের চিকিৎসা পুরুষদের শরীরে স্বাভাবিক শুক্রাণু উৎপাদন কমিয়ে দিতে বা বন্ধ করতে পারে। চিকিৎসা বন্ধ করার পর অনেকের ক্ষেত্রে শুক্রাণু উৎপাদন স্বাভাবিক হলেও সবার ক্ষেত্রে তা নিশ্চিত নয়।
নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, টেস্টোস্টেরন থেরাপির কিছু নির্দিষ্ট উপকার থাকলেও শক্তি, কর্মক্ষমতা, প্রাণশক্তি বা বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এর ব্যবহার সমর্থন করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
সামরিক বাহিনীর শারীরিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অংশ হিসেবে হেগসেথ টেস্টোস্টেরন পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছেন। জুলাইয়ে তিনি বলেন, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলো ব্যক্তিগতভাবে প্রশিক্ষিত ও সক্ষম সেনাসদস্য।
পেন্টাগনের নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে এখন ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সি পুরুষ সেনাসদস্যদের নিয়মিত স্বাস্থ্য মূল্যায়নের সঙ্গে টেস্টোস্টেরন ঘাটতির বিষয়টিও যুক্ত হলো। তবে চিকিৎসার প্রয়োজন আছে কি না এবং চিকিৎসা কীভাবে হবে—সে সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সেনাসদস্য ও সামরিক চিকিৎসকদের ওপরই রাখা হয়েছে।