তেহরানে ‘ইরানের জন্য আত্মত্যাগ’ শোভাযাত্রা, অংশ নিলেন লাখো মানুষ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে তেহরানে ‘জানফাদা-ই-ইরান’ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এতে ৩ লাখ ১৩ হাজার মানুষ অংশ নেন।
আন্তর্জাতিক: রাজনীতির মঞ্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যতটা আলোচিত তাঁর বিতর্কিত বক্তব্য, নির্বাচনী সমাবেশ আর বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের জন্য, খাবারের টেবিলেও তিনি ঠিক ততটাই ব্যতিক্রমী। বার্গার, ফ্রাইড চিকেন, স্টেক, কেক আর দিনে ১২ ক্যান পর্যন্ত ডায়েট কোক—এটাই তাঁর খাদ্যাভ্যাসের পরিচিত চিত্র। সবুজ শাকসবজির প্রতি তীব্র অনীহা, ব্যায়ামে অনাগ্রহ এবং ফাস্টফুডের প্রতি প্রবল ঝোঁক—সব মিলিয়ে ট্রাম্পের খাবারের দুনিয়া যেন তাঁর বর্ণিল ব্যক্তিত্বেরই আরেকটি অদ্ভুত অধ্যায়।
ফাস্টফুডের প্রতি ট্রাম্পের ভালোবাসা প্রায় কিংবদন্তিতুল্য। ব্যক্তিগত বিমানে তাঁকে কেএফসির বালতি ভর্তি ফ্রাইড চিকেন খেতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ম্যাকডোনাল্ডসের বার্গার ও ফ্রাই উপভোগ করতে দেখা যায়। ট্রাম্পের সাবেক নির্বাচনী প্রচার উপদেষ্টারা মজা করে ম্যাকডোনাল্ডস, কেনটাকি ফ্রাইড চিকেন, পিৎজা এবং ডায়েট কোককে ট্রাম্পের ‘চার প্রধান খাদ্যগোষ্ঠী’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ট্রাম্প দিনে ১২ ক্যান পর্যন্ত ডায়েট কোক পান করতেন। এতটাই আসক্তি ছিল যে, হোয়াইট হাউসে তাঁর ডেস্কে একটি বিশেষ বোতাম রাখা ছিল, যাতে চাপলেই নতুন ক্যান হাজির হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় পেনসিলভানিয়ায় একটি ম্যাকডোনাল্ডসের ড্রাইভ-থ্রুতে কিচেন অ্যাপ্রন পরে গ্রাহকদের হাতে চিজবার্গার ও নাগেটস তুলে দিয়ে তিনি ফাস্টফুডের প্রতি নিজের ভালোলাগা আবারও প্রকাশ করেছিলেন।
ফাস্টফুডের বাইরে ট্রাম্পের পছন্দের তালিকায় রয়েছে অতিরিক্ত রান্না করা বা ভালোভাবে পোড়ানো স্টেক, যার সঙ্গে থাকে প্রচুর কেচাপ। মার-এ-লাগোর সাবেক বাটলারের ভাষ্য অনুযায়ী, স্টেকের সঙ্গে কোনো সবজি বা অভিনব সস তাঁর পছন্দ ছিল না। অন্যদিকে, বার্গারের পাশাপাশি মিষ্টির প্রতিও তাঁর রয়েছে প্রবল দুর্বলতা। হোয়াইট হাউসে থাকাকালীন নৈশভোজে অন্যরা এক স্কুপ আইসক্রিম পেলেও তিনি পেতেন দুই স্কুপ। এয়ার ফোর্স ওয়ানেও ওরিও, ভিয়েনা ফিঙ্গারস ও চিপস মজুত থাকত। ২০১৭ সালে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের সময় পরিবেশন করা চকলেট কেক নিয়ে তাঁর গর্ব করার ঘটনাও বেশ আলোচিত হয়েছিল।
সবুজ শাকসবজির প্রতি ট্রাম্পের অনীহা সর্বজনবিদিত। চিকিৎসকেরা তাঁর খাদ্যাভ্যাস কিছুটা স্বাস্থ্যকর করতে অনেক সময় ম্যাশড পটেটোর সঙ্গে ফুলকপি মিশিয়ে দিতেন, যাতে তিনি বুঝতে না পেরে কিছুটা সবজি খান। তাছাড়া তিনি শরীরচর্চায়ও খুব একটা আগ্রহী নন; বরং দীর্ঘ নির্বাচনী প্রচারের ব্যস্ততাকেই তিনি ব্যায়ামের বিকল্প মনে করেন। চিকিৎসকরা কম শারীরিক পরিশ্রম ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ট্রাম্প বরাবরের মতোই নিজের সুস্বাস্থ্যের দাবি করে এসেছেন।
সমর্থকদের কাছে ম্যাকডোনাল্ডস ও কেএফসির প্রতি ট্রাম্পের এই ভালোবাসা তাঁকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে গেছে। বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও তিনি সাধারণ মানুষের মতোই পরিচিত খাবার পছন্দ করেন। তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, মার্কিন রাষ্ট্রপতির মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য এমন অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন কতটা দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকর?