তেহরানে ‘ইরানের জন্য আত্মত্যাগ’ শোভাযাত্রা, অংশ নিলেন লাখো মানুষ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে তেহরানে ‘জানফাদা-ই-ইরান’ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এতে ৩ লাখ ১৩ হাজার মানুষ অংশ নেন।
আন্তর্জাতিক: ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনী। দেশটির তাইজ প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। নতুন করে সংঘাত বাড়ায় ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর তুলনামূলক শান্ত থাকা ইয়েমেন আবারও বড় ধরনের সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় তাইজের আল-ওয়াজিয়াহ এলাকায় সংঘর্ষ ও বিমান হামলায় ৩০ হুথি যোদ্ধা নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর মিডিয়া সেন্টারের বরাত দিয়ে সামরিক সূত্র জানায়, আল-ওয়াজিয়াহ জেলার বিভিন্ন ফ্রন্টে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় হুথিদের কয়েকটি যানবাহন ও অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তাইজের পাশাপাশি লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোকাতেও হুথিদের সরবরাহপথ ও সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সরকারি বাহিনী তাইজসহ একাধিক প্রদেশে হুথিদের অবস্থান ও রসদ সরবরাহের পথ লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে।
তাইজ বর্তমানে সংঘাতের অন্যতম প্রধান ফ্রন্টে পরিণত হয়েছে। একই সময়ে হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলের কৌশলগত কিছু এলাকায় অগ্রসর হয়েছে। সাম্প্রতিক লড়াইয়ে মোকা বন্দরও হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার খবর এসেছে।
নতুন করে সংঘর্ষ তীব্র হওয়ার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই পক্ষের অন্তত ৬৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ তথ্য সামরিক সূত্রের বরাতে এএফপি জানিয়েছে।
ইয়েমেনের সরকারি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুটি প্রদেশে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ২৩ সরকারি সেনা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে হুথিদের সামরিক সূত্রের দাবি, সৌদি বিমান হামলা ও স্থলযুদ্ধে তাদের ৪০ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এসব সংখ্যা সংশ্লিষ্ট পক্ষের দেওয়া হিসাব; স্বাধীনভাবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সৌদি আরবের দাবি, হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ১৫ সেপ্টেম্বর মক্কার দক্ষিণে একটি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি ঘটনাটিকে গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হুথি নেতা আবদুল মালিক আল-হুথি সৌদি দাবিকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলে ওই ড্রোনের উৎস ও লক্ষ্য নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে।
ইয়েমেনে ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা ও বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নেওয়ার পর সংঘাত তীব্র হয়। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে সামরিক অভিযান শুরু করে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলেও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান হয়নি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহে পরিস্থিতি আবার দ্রুত অবনতি হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এক লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। তাইজসহ লোহিত সাগর উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের বাস্তুচ্যুতি বাড়ছে।
হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর পাল্টা অভিযান অব্যাহত থাকলে ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ নতুন মাত্রা পেতে পারে। একই সঙ্গে বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।