এআই ডেভেলপমেন্টের কাজ কি বৈধ? যা বললেন মুফতি সাইদুজ্জামান
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা বা এআই ডেভেলপমেন্টের পেশা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ কি না—এ বিষয়ে মুফতি সাইদুজ্জামান কাসেমির ব্যাখ্যা।
ইসলাম: জীবনের প্রতিটি নতুন বছর মানুষের বয়স বাড়ানোর পাশাপাশি জীবনের আয়ু থেকেও একটি বছর কমিয়ে দেয়। তাই জন্মদিনকে কেউ আনন্দের উপলক্ষ হিসেবে দেখলেও ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে দিনটি আত্মসমালোচনা, কৃতজ্ঞতা ও পরকালের প্রস্তুতির কথা স্মরণ করার সুযোগ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরোয়াভাবে জন্মদিন পালন, কেক কাটা ও মোমবাতি জ্বালানোর রীতি সমাজে প্রচলিত। তবে জন্মদিন উদযাপন ইসলামী সংস্কৃতির অংশ কি না এবং এ ধরনের আয়োজনের শরিয়তি বিধান কী—এ নিয়ে আলেমদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
প্রচলিত জন্মদিন উদযাপনকে ইসলামী সংস্কৃতির ঐতিহ্যগত অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন না অনেক আলেম। তাঁদের মতে, নির্দিষ্ট দিনকে কেন্দ্র করে কেক কাটা, মোমবাতি জ্বালানো কিংবা বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে জন্মদিন উদযাপন ইসলামের প্রচলিত ইবাদত বা উৎসবের অংশ নয়।
এই মতের পক্ষে ‘অন্য সম্প্রদায়ের অনুকরণ’সংক্রান্ত একটি হাদিসও উল্লেখ করা হয়। আবু দাউদে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
অর্থাৎ, ‘যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।’ (সুনানে আবু দাউদ, ৪০৩১)
তবে হাদিসটির প্রয়োগ কোন কোন সামাজিক রীতির ক্ষেত্রে হবে, সে বিষয়ে আলেমদের ব্যাখ্যা ও ফিকহি মতপার্থক্য রয়েছে। তাই জন্মদিন পালনের বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন অনেকে।
নিজের জন্মের দিন সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিসকে এ আলোচনায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। হজরত আবু কাতাদা আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, সোমবারের রোজা সম্পর্কে নবীজি (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন—
فِيهِ وُلِدْتُ، وَفِيهِ أُنْزِلَ عَلَيَّ الْقُرْآنُ
অর্থাৎ, ‘এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনেই আমার ওপর কুরআন নাজিল করা হয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম, ১১৬২)
হাদিসটির ভিত্তিতে আলেমদের একটি অংশ বলেন, নিজের জন্মের সঙ্গে সম্পর্কিত দিনের জন্য নবীজি (সা.)-এর আমল ছিল রোজা রাখা। তাঁদের মতে, জন্মদিনকে কেন্দ্র করে প্রচলিত উৎসবের পরিবর্তে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, নফল ইবাদত ও দোয়া করা অধিক উপযোগী।
ইসলামী দৃষ্টিতে মানুষের জীবন ও সুস্থতা আল্লাহর নিয়ামত। তাই জন্মদিন উপলক্ষে আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায়, নফল নামাজ, দোয়া, রোজা ও দান-সদকার মতো ইবাদত করা যেতে পারে।
পরিবারের কারও জন্মদিন হলে তাকে নিয়ে দোয়া করা, অসহায় মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা কিংবা দান-সদকা করার মতো কাজও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি মাধ্যম হতে পারে।
তবে কোনো নির্দিষ্ট আমলকে জন্মদিনের জন্য শরিয়ত নির্ধারিত বিশেষ ইবাদত হিসেবে গণ্য করার আগে সংশ্লিষ্ট আলেমদের ব্যাখ্যা জানা প্রয়োজন।
একজন মানুষের জীবনে প্রতিটি জন্মদিন একই সঙ্গে আনন্দ ও আত্মজিজ্ঞাসার উপলক্ষ হতে পারে। জীবনের আরেকটি বছর পার হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো মৃত্যুর দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। তাই এ সময় নিজের আমল, সময়ের ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ জীবনের প্রস্তুতি নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়।
ইসলামী জীবনব্যবস্থায় আনন্দ প্রকাশ নিষিদ্ধ নয়। তবে আনন্দের প্রকাশে ধর্মীয় বিধান, শালীনতা ও অপচয় এড়িয়ে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। জন্মদিন পালনের বিষয়ে যারা প্রচলিত আয়োজন থেকে বিরত থাকতে চান, তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দোয়া, ইবাদত ও দান-সদকার মাধ্যমে দিনটি কাটাতে পারেন।
সবশেষে, জন্মদিন পালন নিয়ে শরিয়তি বিধান নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন আলেম ও ফিকহি ধারার মতপার্থক্য রয়েছে। তাই ব্যক্তিগত ধর্মীয় আমলের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত ও জ্ঞানসম্পন্ন আলেমের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।