কলকাতায় হোটেল-গেস্টহাউস বন্ধে বিপাকে বাংলাদেশি রোগীরা
অগ্নিনিরাপত্তা অভিযানে কলকাতার ৯১৯ হোটেল ও গেস্টহাউসে বন্ধের নোটিশ দেওয়ায় চিকিৎসার জন্য যাওয়া বাংলাদেশি রোগী ও স্বজনেরা আবাসন সংকটে পড়েছেন।
আন্তর্জাতিক: ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে কাজ করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে ইরানি এয়ারলাইনগুলো আন্তর্জাতিক রুটে কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, “২৩ সেপ্টেম্বর থেকে সারা বিশ্বে সব ইরানি এয়ারলাইনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ শুধু ইরানি এয়ারলাইনগুলোর ওপর নয়, বিদেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তাকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকেও লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে।
বেসেন্ট বলেন, কোনো ইরানি এয়ারলাইন বিদেশের কোনো বিমানবন্দরে অবতরণ করলে তাকে জ্বালানি, অবতরণসেবা বা টিকিট বিক্রির সুবিধা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী, টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য বিমান চলাচলসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
বেসেন্টের ভাষায়, ইরানি এয়ারলাইনকে এসব সেবা দেওয়া অব্যাহত রাখলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে ঠেলে দেওয়া হতে পারে।
এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর (ওএফএসি) ইরানের বিমান চলাচল খাতের ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। ওই পদক্ষেপে আগে নিষেধাজ্ঞার আওতায় না থাকা ২৭টি ইরানি এয়ারলাইনসহ মোট ৩৬টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিমান চলাচল খাতকে সহায়তা করা বিদেশি মধ্যস্থতাকারী, বিভিন্ন ফ্রন্ট কোম্পানি এবং যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি উড়োজাহাজ ও সংবেদনশীল প্রযুক্তি সংগ্রহে ব্যবহৃত গোপন সরবরাহপথও ওই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
ইরানের বিমান চলাচল খাত দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। এর ফলে দেশটির এয়ারলাইনগুলোর নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ, যন্ত্রাংশ কেনা এবং রক্ষণাবেক্ষণসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিমান চলাচল খাতের সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কগুলোর ওপরও চাপ বাড়াচ্ছে। এর ফলে বিদেশি বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী, টিকিট বিক্রয়কারী ও অন্যান্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়াতে ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক সীমিত করতে পারে।
ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে চীনের কর্মকর্তারা ‘খুব সক্রিয়ভাবে যুক্ত’ রয়েছেন বলেও দাবি করেছেন বেসেন্ট। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা ও আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার বিষয়ে চীনের আর্থিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ইতিবাচক আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
বেসেন্টের এসব মন্তব্যের আগে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছিল। ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার চীনের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ওয়াশিংটনের বৃহত্তর চাপ প্রয়োগের কৌশলের অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ইরানের ওপর চলমান অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর অংশ। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় ইরানের বিমান চলাচলসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাত ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ককে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনছে।