ইরানকে পাশ কাটিয়ে জ্বালানি সরবরাহে আইএমইসি করিডোরে ট্রাম্পের জোরালো সমর্থন
ইরান সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক অস্থিরতার মধ্যে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর বা আইএমইসিতে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আন্তর্জাতিক: নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে গাজা যুদ্ধ ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলের নীতিকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস থেকে শুরু করে তুরস্ক, ফ্রান্স, কাতার, জর্ডান ও যুক্তরাজ্যের নেতারা গাজার মানবিক পরিস্থিতি, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত প্রায় তিন বছরে গড়িয়েছে। এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গাজা ও ফিলিস্তিন প্রশ্ন আন্তর্জাতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন নেতা গাজার পরিস্থিতিকে যুদ্ধাপরাধ, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও গণহত্যার মতো গুরুতর অভিযোগের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এসব শব্দ ও অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্যের অংশ; এগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক ও আইনগত বিতর্ক রয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ৭ অক্টোবরের হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ ও ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতির বিষয়ে সতর্ক করেন।
গুতেরেসের বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও বাস্তুচ্যুতির প্রবণতা ‘জাতিগত নির্মূলের’ আশঙ্কা তৈরি করছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান জাতিসংঘের ভাষণে গাজায় ইসরাইলি কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি গাজাকে ‘আমাদের সময়ের সবচেয়ে অমানবিক ও লজ্জাজনক কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যামূলক মানসিকতার’ অভিযোগ তোলেন। ইসরাইল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।
এরদোয়ান একই সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকার দাবি করেন।
কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি জাতিসংঘে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষায়, গাজায় যা ঘটেছে তা ‘সব অর্থেই গণহত্যা’। একই সঙ্গে তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের ‘আগ্রাসন’ নিয়েও উদ্বেগ জানান।
তবে তাঁর বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বৃহত্তর সংঘাত এবং কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান। তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর জোর দেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও জাতিসংঘে গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর ভাষায় কথা বলেন। গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা ও বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যে ফিলিস্তিনিদের জন্য রাষ্ট্রীয় অধিকার ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামও ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার নিন্দা জানান। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ওই হামলা গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইল সরকারের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয় না। গাজায় বিপুল প্রাণহানি ও পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা না পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
বার্নহাম পশ্চিম তীরে ইসরাইলের নতুন বসতি পরিকল্পনারও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। যুক্তরাজ্য এরই মধ্যে ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে।
জাতিসংঘের অধিবেশনের বাইরেও ইসরাইলি বসতি নিয়ে কয়েকটি পশ্চিমা দেশের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক চাপের আরেকটি দিক হিসেবে সামনে এসেছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডাসহ মোট ১২টি দেশ পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা বা বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের ঘোষণা দিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার এ সিদ্ধান্তের পর ইসরাইল যুক্তরাজ্যের পূর্ব জেরুজালেম কনস্যুলেট বন্ধ করার ঘোষণা দেয়।
গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এবার বিভিন্ন দেশের বক্তব্যে ইসরাইলের সামরিক অভিযান, গাজার মানবিক পরিস্থিতি এবং পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ—এই তিনটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে একই সঙ্গে ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার নিন্দা এবং ইসরাইলের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিভিন্ন পশ্চিমা নেতার বক্তব্যে উঠে এসেছে। ফলে জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে গাজা প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থান নিয়ে তীব্র মতপার্থক্যও স্পষ্ট হয়েছে।