বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায় ভারত
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী পথে এগিয়ে নিতে চায় ভারত। সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে আলোচনায় প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন রণধীর জয়সোয়াল।
আন্তর্জাতিক: গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে নতুন একটি ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ও গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন চুক্তিতে সই করেন।
চুক্তিটি ১৯৫১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে হওয়া গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা চুক্তির পরিধি বাড়িয়েছে। এতে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা, মার্কিন সামরিক উপস্থিতি, ন্যাটোর ভূমিকা, গ্রিনল্যান্ডের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং সংবেদনশীল খাতে বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়ে নতুন বিধান রাখা হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের নারসারসুয়াক এবং পূর্ব উপকূলের মেস্টারসভিগে দুটি নতুন ‘ডিফেন্স এরিয়া’ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমানে সক্রিয় একমাত্র সামরিক স্থাপনা পিটুফিক স্পেস বেস আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের সুযোগ পাবে।
চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে গ্রিনল্যান্ডে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা এলাকা বা সামরিক স্থাপনা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দেওয়া যেতে পারে। এসব উদ্যোগের স্থান, পরিধি ও কার্যক্রমের ধরন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।
নতুন চুক্তিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী, যানবাহন ও সরকারি জাহাজ-উড়োজাহাজের জন্য গ্রিনল্যান্ডের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা এলাকার মধ্যে অবাধে চলাচলের অধিকার রাখা হয়েছে। এর আওতায় স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথের পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের আঞ্চলিক জলসীমাও রয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উড়োজাহাজ গ্রিনল্যান্ডের যেকোনো এলাকায়, এমনকি আঞ্চলিক জলসীমার ওপরও, উড়তে ও অবতরণ করতে পারবে। মার্কিন সরকারি জাহাজগুলোও আঞ্চলিক জলসীমায় পানির নিচে চলাচল করতে পারবে, যদি না পক্ষগুলোর মধ্যে অন্য কোনো সমঝোতা থাকে।
তবে এসব অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে গ্রিনল্যান্ডের সমাজ, জীবনযাপন, শিকার, মাছ ধরা এবং অন্যান্য ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি সম্মান দেখানোর কথা চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
চুক্তিতে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তায় ন্যাটোর সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ডেনমার্কও স্থল, সমুদ্র, আকাশ ও মহাকাশ সক্ষমতা বাড়িয়ে আর্কটিকে নিজেদের নিরাপত্তা উপস্থিতি জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
একই সঙ্গে ন্যাটোর সদস্য নয়—এমন কোনো দেশকে গ্রিনল্যান্ডে নিজস্ব সামরিক স্থাপনা প্রতিষ্ঠা বা দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি রাখার সুযোগ দেওয়া হবে না, যদি না চুক্তির পক্ষগুলো আলাদাভাবে সম্মতি দেয়।
চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানানোর কথাও বলা হয়েছে।
ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন হলেও চুক্তিটি কার্যকর রাখার বিধান রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডকে নিশ্চিত করতে হবে যে স্বাধীন গ্রিনল্যান্ড ন্যাটোর সঙ্গে যুক্ত থাকবে। প্রয়োজন হলে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ন্যাটোর সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে এবং বর্তমান চুক্তির অধিকার ও দায়দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।
চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল খাতে কিছু বিদেশি বিনিয়োগের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ন্যাটো সদস্য, ন্যাটো অংশীদার বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়—এমন দেশের বিনিয়োগকারী বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কোনো সংবেদনশীল খাতে নিয়ন্ত্রণ, উল্লেখযোগ্য প্রভাব বা গোপন তথ্য পাওয়ার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডে বিদ্যমান বা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ যাচাই ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব বিধান বাস্তবায়ন করা হবে।
নতুন নিরাপত্তা চুক্তির কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ রাখা হয়নি। এতে বলা হয়েছে, চুক্তিটি শেষ হওয়ার কোনো তারিখ নেই এবং পারস্পরিক সম্মতি ছাড়া এতে পরিবর্তন আনা যাবে না।
তবে চুক্তিটি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রয়োজনীয় সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিক নোট পাঠানোর পর এটি কার্যকর হবে।
চুক্তিটি এমন সময়ে হলো, যখন গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের ধারাবাহিক বক্তব্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে কয়েক মাস ধরে কূটনৈতিক উত্তেজনা চলছিল। নতুন চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখেই আর্কটিক অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর কাঠামো তৈরি হলো।