নেতানিয়াহুর বিমান কানাডার আকাশসীমা পেরোবে কি না, খতিয়ে দেখছে অটোয়া
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিমান কানাডার আকাশসীমা ব্যবহার করবে কি না, তা খতিয়ে দেখছে অটোয়া।
আন্তর্জাতিক: চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের জন্য একটি আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি এবং ধাপে ধাপে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। পাশাপাশি আরব প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ এবং বৃহত্তর শান্তি আলোচনার জন্য একটি সময়সূচি নির্ধারণের বিষয়ও প্রস্তাবিত রূপরেখায় রয়েছে বলে আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে গালফ নিউজ ও দ্য ন্যাশনাল।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার মধ্যেই এ রূপরেখা সামনে এসেছে। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালি পর্যায়ক্রমে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার কথা রয়েছে। এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্ত পূরণ করলে সাত দিনের মধ্যে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
তবে তেহরান আলোচনার ক্ষেত্রে নিজেদের কয়েকটি প্রধান শর্তের ওপর জোর দিচ্ছে। এর মধ্যে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্যতম। ইরানের প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণের কথাও বলা হয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের পাশাপাশি কাতার, পাকিস্তান ও মিসর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। নিউইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে আলোচনাও হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনার সম্ভাবনা নিয়েও কাজ করছেন মধ্যস্থতাকারীরা।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন কূটনীতির জন্য উন্মুক্ত থাকলেও সামরিক বিকল্পও খোলা রয়েছে। ফলে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনাকে সম্ভাবনাময় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নিউইয়র্কে আরাগচি ও উইটকফের আলোচনার পর তিনি এটিকে ফলপ্রসূ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানও বজায় রাখেন তিনি।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে মার্কিন চাপের কাছে তেহরান নতি স্বীকার করবে না বলে জানান। ফলে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পথ খোলা থাকলেও সমঝোতার বিষয়গুলো এখনো অনিশ্চিত।
ইরানের প্রস্তাবিত রূপরেখায় আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালির ধাপে ধাপে পুনরায় খুলে দেওয়া, আরব প্রতিবেশীদের ওপর হামলা বন্ধ এবং বৃহত্তর আলোচনার সময়সূচির বিষয় রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ রূপরেখা গ্রহণ করেছে—এমন কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হওয়ায় এর নিরাপত্তা ও নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে নিউইয়র্কের কূটনৈতিক তৎপরতার পরবর্তী ধাপে যুদ্ধবিরতি ও নৌপথ উন্মুক্ত করার বিষয়ে দুই পক্ষ কতটা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, সেদিকেই নজর থাকবে।