ক্যামেরার সামনে না এসেই মুখ ‘ভাড়া’ দিয়ে আয় করছেন চীনের মানুষ
এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিজ্ঞাপন, নাটক ও গেমে ব্যবহারের জন্য নিজেদের মুখাবয়বের লাইসেন্স দিয়ে আয় করছেন চীনের সাধারণ মানুষ। ব্যবহারের ধরনভেদে মিলছে ৫০ থেকে ১ লাখ ইউয়ান পর্যন্ত।
আন্তর্জাতিক: ইরানের পুরো বিমান চলাচল খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পরও তেহরান থেকে ৩০টির বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট চলাচল করছে বলে জানিয়েছে ইরান। তবে নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে দেশটির আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইরানের বিমান যোগাযোগ এখনো সচল রয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৪১টি ফ্লাইট উড্ডয়ন ও অবতরণ করেছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগের দুই দিনে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০টি ফ্লাইট চলাচল করছিল।
সেপ্টেম্বরে ইরানের পুরো বিমান চলাচল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হবে।
বিদেশি কোম্পানিগুলোকে ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। বেসেন্ট সতর্ক করে বলেন, বিশ্বের যেকোনো জায়গায় ইরানের বিমান সংস্থার কার্যক্রম চালানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বাদ পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা না মানলে ইরানের বিমানে জ্বালানি সরবরাহ, বিমান অবতরণ-সংক্রান্ত সেবা ও টিকিট বিক্রির মতো কার্যক্রম নিয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে ইরানের প্রধান দুই বিমান সংস্থা ইরান এয়ার ও মাহান এয়ারের ওপর। গত রোববার তেহরান থেকে পরিচালিত ২৪টি ফ্লাইটের মধ্যে মাহান এয়ার পাঁচটি এবং ইরান এয়ার দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে দুই সংস্থাই প্রতিদিন প্রায় ১০টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করত। ফলে নিষেধাজ্ঞার পর আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট দাবি করেছিলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে। তবে তেহরান বিমানবন্দরের পরিচালক রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, এখনো ৩০টির বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট চলাচল করছে।
চীন মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ ও একতরফা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির কয়েকটি বিমানবন্দর থেকে মাহান এয়ারের ফ্লাইটও চলাচল করছে।
রাশিয়া ও পাকিস্তানের সঙ্গেও ইরানের বিমান যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর এ বিষয়ে দেশ দুটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তুরস্কের অনুরোধে মাহান এয়ার দেশটির সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করেছে। তবে ইরান এয়ার এখনো প্রতিদিন ইস্তাম্বুলে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ইরানের কয়েকটি ছোট বিমান সংস্থাও তুরস্কের অন্যান্য শহরে ফ্লাইট চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ছাড়া আর্মেনিয়া, আফগানিস্তান, বেলারুশ ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে ইরানের বিমান যোগাযোগের ওপর নিষেধাজ্ঞা এখনো কার্যকর হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তেহরান আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইরান এই নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে অভিযোগ করার কথা জানিয়েছে।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের ভূখণ্ড থেকে ইরানের সব ফ্লাইট ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ স্থগিত করেছে। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
ফলে একদিকে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও কয়েকটি অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকায় দেশটির আকাশপথ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি।