মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৪৭৬ জন মিয়ানমারের শরণার্থীকে ফেরত পাঠালো
মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্র থেকে তিনটি নৌযানে করে মিয়ানমারের ১ হাজার ৪৭৬ জন নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।
আন্তর্জাতিক: যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, সামুদ্রিক পরিবহণে বাধা এবং চলমান সামরিক সংঘাতের প্রভাবে ইরানের ওষুধ সরবরাহব্যবস্থা বড় ধরনের চাপে পড়েছে। দেশটির সাধারণ ফার্মেসিগুলোতে কিছু ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে এবং কয়েকটি ওষুধের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে রোগী ও তাদের পরিবারের ভোগান্তি বাড়ছে।
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কয়েক মাসের মধ্যেই ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও চাপ বেড়েছে। মুদ্রার মূল্য কমে যাওয়া, বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে ওষুধের বাড়তি দামও সাধারণ মানুষের ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।
তেহরানের ওয়েল্ডার গোলামরেজা রহমানির ১২ বছর বয়সী মেয়ের জন্য চার ধরনের ওষুধের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু প্রেসক্রিপশন নিয়ে দুই দিন ধরে কয়েকটি ফার্মেসিতে ঘুরেও সব ওষুধ একসঙ্গে পাননি তিনি।
রহমানির ভাষ্য, প্রতিটি ফার্মেসিতে এক বা দুটি ওষুধ পাওয়া যাচ্ছিল, কিন্তু সবগুলো পাওয়া যাচ্ছিল না। একটি ওষুধ কোথাও খুঁজে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাকে। ওষুধ খোঁজার জন্য দুই দিন কাজে যেতে না পারায় মজুরিও হারিয়েছেন তিনি।
এই ধরনের অভিজ্ঞতা ইরানের সাধারণ ফার্মেসিতে ওষুধ সরবরাহের চাপের একটি চিত্র তুলে ধরছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরান তার প্রয়োজনীয় ওষুধের ৮০ শতাংশের বেশি দেশেই উৎপাদন করে। তবে স্থানীয় উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কাঁচামাল ও ঔষধি উপাদান বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।
তেহরান ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য বাহমান সাবুরের মতে, যুদ্ধের আগে এসব কাঁচামালের বড় অংশ সমুদ্রপথে ইরানে আসত। সামুদ্রিক পরিবহণে বাধার কারণে সরবরাহব্যবস্থা এখন সমস্যার মুখে পড়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু আমদানিকারক তুলনামূলক ব্যয়বহুল আকাশপথ ব্যবহার শুরু করেন। কিন্তু ইরানের কয়েকটি বিমান সংস্থার ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে সেই পথও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
যুক্তরাজ্যের এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ারের অধ্যাপক রেজা মাজেদজাদেহ বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো সরাসরি ইরানের ওষুধকে লক্ষ্য করে দেওয়া না হলেও দীর্ঘদিনের আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ওষুধ সরবরাহে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও কোম্পানিগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ার আশঙ্কায় ইরানের সঙ্গে লেনদেন এড়িয়ে চলে। ফলে কোনো ওষুধ বা চিকিৎসাসামগ্রী বিক্রি আইনগতভাবে অনুমোদিত হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে না চাইতে পারে।
এতে কাগজে-কলমে বৈধ একটি বাণিজ্যিক লেনদেনও বাস্তবে সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ইরান সরকার এখনো যুদ্ধের কারণে ওষুধ উৎপাদন কতটা কমেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। তবে দেশটির কর্মকর্তাদের দাবি, বিমান হামলায় ৪০টির বেশি ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর মধ্যে ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানও রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফলে স্থানীয় উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।
ওষুধের সরবরাহের পাশাপাশি আর্থিক সংকটও ফার্মেসিগুলোর কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে। নগদ অর্থের সংকটে থাকা অনেক ফার্মেসি প্রয়োজনীয় পরিমাণ ওষুধ মজুত রাখতে পারছে না বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
ইরানের সংসদীয় স্বাস্থ্য কমিটির সদস্য মোহাম্মদ জামালিয়াট জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বিমা কোম্পানিগুলো ফার্মেসিগুলোর ওষুধের কভারেজ বাবদ অর্থ পরিশোধে দীর্ঘ সময় নিচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই বিল পরিশোধে নয় মাস পর্যন্ত বিলম্ব হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ফলে যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার সরাসরি এবং পরোক্ষ প্রভাব মিলিয়ে ইরানের ওষুধ সরবরাহব্যবস্থা ক্রমেই চাপের মুখে পড়ছে। হাসপাতাল পর্যায়ে বড় ধরনের সংকটের স্পষ্ট চিত্র এখনো সামনে না এলেও সাধারণ ফার্মেসিতে ওষুধের প্রাপ্যতা ও মূল্য—দুই ক্ষেত্রেই এর প্রভাব দৃশ্যমান হচ্ছে।