বিমানবন্দরে লাগেজ চুরি: প্রবাসী হয়রানি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ চাই*- রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী হয়রানি, লাগেজ চুরি ও ট্রলি সংকট বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের ইতিহাসের এক অবিনাশী অধ্যায় ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান’। সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সাম্প্রতিক মতবিনিময় সভাটি কেবল একটি প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পথে ঐতিহাসিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এক অপরিহার্য ধাপ। ফ্যাসিবাদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে গিয়ে যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং যাঁরা চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাঁদের অবদানের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রদান করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উঠে আসা সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো প্রমাণ করে যে, স্বৈরাচারবিরোধী এই গণ-আন্দোলনের আত্মত্যাগকে কেবল মৌখিক স্বীকৃতিতে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। প্রস্তাবনায় না রেখে সংবিধানের তফসিলে এটিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে কমিটির ইতিবাচক অবস্থান একটি সুদূরপ্রসারী কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হতে পারে।
মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি মূল সংবিধানের প্রস্তাবনায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানালেও বিশেষ কমিটি এটিকে তফসিলে ধারনের যুক্তিসঙ্গত আইনি পথ নির্দেশ করেছে।
জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নকালে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ঐতিহাসিক ঐকমত্য গড়ে উঠেছিল, সেটিকে অক্ষুণ্ণ রেখে সংবিধানের তফসিলে ‘জুলাই ঘোষণা’ ও গণ-অভ্যুত্থানের বিবরণ যুক্ত করলে তা পূর্ণাঙ্গ আইনি ভিত্তি পাবে। তফসিলে এই ঐতিহাসিক ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ধারণ করা হলে, ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক পটপরিবর্তনেও গণ-অভ্যুত্থানের অংশীদাররা আইনি জটিলতা বা প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হবেন না।
সভার আলোচনায় জুলাই যোদ্ধাদের অধিকার রক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সামাজিক ও বিচারিক তাগিদ উঠে এসেছে। জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি প্রথম ও প্রধান দায়বদ্ধতা। সুনির্দিষ্ট তদন্ত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রতিষ্ঠা না হলে কোনো আইনি প্রক্রিয়াই পূর্ণতা পাবে না।
আহত জুলাই যোদ্ধাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের পরিবারের জন্য সম্মানজনক ভাতা প্রদান কোনো দয়া বা খয়রাতি নয়; এটি তাঁদের অর্জিত মৌলিক রাষ্ট্রীয় অধিকার। বিতর্কিত অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে নিরপেক্ষ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা না রাখার নীতিগত প্রস্তাবনাটি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের স্থায়ী পথ উন্মুক্ত করবে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের যেমন সাংবিধানিক ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে, তেমনি ২০২৪-এর জুলাই গণ–অভ্যুত্থান আধুনিক বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সংঘাত ও মতপার্থক্য কাটিয়ে জুলাই জাতীয় সনদের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকারগুলো সংবিধানে ধারণ করতে হবে।
কোনো নোট অব ডিসেন্ট বা দলীয় সংকীর্ণতা যেন শহীদদের রক্ত ও ত্যাগের মর্যাদাকে খাটো করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই এখন সংবিধান সংস্কার কমিটির সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রচিন্তক।