শিক্ষক দিবসে মৌলভীবাজার কালেক্টরেট স্কুলের প্রথম শিক্ষার্থীর অভিভাবকের আবেগঘন চিঠি
মৌলভীবাজার কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের প্রথম শিক্ষার্থী শেখ শামসুজ্জামানের অভিভাবক শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন চিঠি লিখেছেন।
ঢাকা: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও ১ হাজার ৪৭১ জন প্রার্থী শেষ পর্যন্ত চাকরিতে যোগদান করেননি। নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়া এবং নিয়োগপত্র পেয়েও কাজে যোগ না দেওয়ায় এসব পদ শূন্য রয়ে গেছে। ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট পূরণে খুব দ্রুতই নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।
বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২৫’-এর অধীনে দুই ধাপে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্যপদের বিপরীতে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। প্রতি পদের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৭৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
নির্ধারিত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। এরপর গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলাভিত্তিক নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়।
চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫৫২ জন প্রার্থী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি এবং ১ জন প্রার্থী মারা গেছেন।
কাগজপত্র জমা দেওয়া ১৩ হাজার ৮৩১ জনের মধ্যে ১৩ হাজার ৭৪৮ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।
নিয়োগপত্র পাওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১২ হাজার ৮৩০ জন চাকরিতে যোগদান করলেও ৯১৮ জন কাজে যোগ দেননি।
সব মিলিয়ে কাগজপত্র জমা না দেওয়া ৫৩ জন এবং নিয়োগপত্র পেয়েও যোগদান না করা ৯১৮ জনসহ মোট ১ হাজার ৪৭১ জন প্রার্থী এই সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। অন্যদিকে, পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেয়েও সামান্য ব্যবধানে ৮৩ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র বঞ্চিত হয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) আবদুর রহিম গণমাধ্যমকে জানান, “অনেকে কাগজপত্র জমা দেননি বা আগ্রহ দেখাননি, আবার অনেকেই নিয়োগপত্র পেয়েও অন্য কোথাও ভালো চাকরি হওয়ায় যোগ দেননি। সব সরকারি নিয়োগেই এমন ঘটনা ঘটে।”
তবে বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত বড় একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যেমন সময় ও অর্থ ব্যয় হয়, তেমনি পদ শূন্য থাকায় শিক্ষার গুণগত মানও ব্যাহত হয়। এই সংকট কাটাতে খুব দ্রুতই নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রাথমিক প্রস্তুতি চলছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।