বাংলাদেশ-জাপান অংশীদারিত্ব জোরদার, ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা
টোকিওতে দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ ও বিগ-বি রূপরেখা সম্প্রসারণের ঘোষণা। বাংলাদেশ-জাপান যৌথ বিবৃতি প্রকাশ।
বাংলাদেশে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা গবেষণা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য এবং আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামোর টেকসই উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়াতে ‘সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন’-এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবার জাপানের টোকিওতে স্থানীয় বিকেলে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন আয়োজিত বিশেষ স্বাস্থ্যবিষয়ক সেমিনারে সম্মানিত বক্তা হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। সেমিনারে নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়াসহ দুই দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজের চিকিৎসক জীবনের পেশাগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সবার জন্য সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করা, সরকারি হাসপাতালের মান বাড়ানো, নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে পরিবারভিত্তিক সামাজিক সহায়তা ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে মানুষের মৌলিক জীবনমান উন্নত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবাকে ব্যক্তিগত ও পেশাগত আগ্রহের জায়গা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী আন্তঃসংযোগ বৃদ্ধির এই যুগে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ সুনিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য কূটনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ ও জাপানের বহুমুখী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে এবং দুই দেশের অর্জিত জ্ঞান, প্রযুক্তি ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য খাতের নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।
শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের দীর্ঘদিনের নিরলস প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করে ডা. জুবাইদা রহমান বাংলাদেশে তাদের সার্বিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রস্তাব করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে মানসম্মত উপযুক্ত স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষণা ও বিশ্বমানের হাসপাতাল গড়ে তোলার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার যেকোনো বৈশ্বিক বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে বাংলাদেশ সরকার পূর্ণ নীতিগত সহযোগিতা ও সমর্থন দিতে প্রস্তুত বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।