লালমনিরহাটের তিস্তাপাড়ের কান্না, কাঁচা আমন ধানের গাছ যাচ্ছে গরুর পেটে, সর্বস্ব হারিয়ে দিশাহারা কৃষকেরা
তিস্তার তীব্র ভাঙনে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বিলীন বসতভিটা ও ফসলি জমি। কাঁচা আমন ধান কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছেন সর্বস্বহারা কৃষকেরা।
দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে জাদুঘর, জাদুঘরকর্মী, ঐতিহ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠান, ঐতিহ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিক জাদুঘর পরিষদের (আইকম) আচরণবিধি অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাস।
তিনি বলেন, জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে নিদর্শন সংগ্রহ, নিবন্ধন, সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, গবেষণা, প্রদর্শন ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে আইকমের সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। এসব নীতিমালা অনুসরণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) হেরিটেজ ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘আইকম—জাদুঘরের জন্য আচরণবিধি’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসুদ ইমরান মান্নু। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সাবিনা আলম।
হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব। সঞ্চালনা করেন হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব আলম আরা বেগম। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সচিব মো. সাদেকুল ইসলাম।
কর্মশালার দ্বিতীয় অধিবেশনে আইকমের আচরণবিধির ইতিহাস, তা অনুসরণের গুরুত্ব ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক এবং আইকম বাংলাদেশের জাতীয় কমিটির সাবেক চেয়ারপারসন জাহাঙ্গীর হোসেন। এ সময় তিনি আচরণবিধির বাংলা অনুবাদ উপস্থাপন করে অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও সুপারিশ আহ্বান করেন।
পরে অংশগ্রহণকারীরা পাঁচটি দলে বিভক্ত হয়ে আচরণবিধির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন এবং নিজেদের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন। এসব সুপারিশ পর্যালোচনা করে আচরণবিধিটি পুস্তক আকারে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের অনুসরণের লক্ষ্যে এটি সরকারের কাছে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়।
কর্মশালায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, এশিয়াটিক সোসাইটি, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, জাহানারা ফাউন্ডেশন জাদুঘর, এশিয়ান সংগীত জাদুঘর, আহসান মঞ্জিল জাদুঘর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ জাতিসংঘ সমিতিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ৭৩ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।