ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা ব্যর্থ: ট্রাম্পের নীরবতায় যুদ্ধের শঙ্কা
২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পর কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি বৈঠক। যুদ্ধবিরতির ১০ দিন বাকি থাকতেই ট্রাম্পের নীরবতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ।
দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং স্বৈরশাসনের অবসানের পর বাংলাদেশে এখন এক নতুন ভোরের সূচনা হয়েছে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক সরকারের মূল অগ্রাধিকার এখন জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর বাণীতে যে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, তা কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের ব্লুপ্রিন্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে ‘মব ভায়োলেন্স’ বা গণসহিংসতা রোধে তাঁর কঠোর অবস্থান একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশের প্রধান শক্তি হলো জনগণের আস্থা। বিগত বছরগুলোতে পুলিশের দলীয়করণ এবং সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়নের ফলে এই আস্থার জায়গায় বড় ধরনের ফাটল ধরেছিল। প্রধানমন্ত্রী সঠিকভাবেই চিহ্নিত করেছেন যে, “পুলিশ যদি জনগণের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করতে পারে, তাহলে তাদের দায়িত্ব পালনের পথ সুগম হয়ে যায়।” বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পুলিশের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো এই হারানো বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করা। গুম, অপহরণ ও ভয়ের সংস্কৃতিমুক্ত সমাজ গড়তে পুলিশকে ‘শাসকের বাহিনী’ নয়, বরং ‘জনগণের সেবক’ হিসেবে আবির্ভূত হতে হবে।
বর্তমান বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মব সহিংসতা বা গণপিটুনির মতো আইনবহির্ভূত তৎপরতা। যখনই সাধারণ মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে, তখনই রাষ্ট্রের আইনি কাঠামোর ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী এই মব সহিংসতাকে কঠোরভাবে দমনের যে তাগিদ দিয়েছেন, তা মূলত একটি বিচারহীনতামুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার। মব ভায়োলেন্সের পাশাপাশি কিশোর গ্যাং এবং মাদকের নীল দংশন থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে পুলিশকে কেবল একটি বাহিনী হিসেবে নয়, বরং সমাজ সংস্কারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। সাধারণ মানুষের মনে যে দীর্ঘদিনের গুম, অপহরণ এবং ভয়ের সংস্কৃতি বাসা বেঁধেছিল, সেই আতঙ্ক দূর করে একটি স্বস্তিময় ও নির্ভয় পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখনকার প্রধান অগ্রাধিকার।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ‘মব ভায়োলেন্স’ বা আইন হাতে তুলে নেওয়া সবচেয়ে বড় বাধা। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং এবং মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। যখন একটি উপযোগী ও নিরপেক্ষ রাজনৈতিক পরিবেশ বিদ্যমান থাকে, তখন পুলিশ বাহিনী যে কতটা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারে, তা এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গেলে ভবিষ্যতে যেকোনো জাতীয় সংকটে পুলিশ বাহিনী মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা আমাদের বিশ্বমঞ্চে সম্মানিত করেছে। তবে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সাইবার অপরাধ দমনে সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। ড্রোণ সার্ভেইল্যান্স, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব এবং উন্নত ডাটাবেজ তৈরির মাধ্যমে পুলিশকে একটি স্মার্ট বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নতি নির্ভর করছে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর। বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘মানবিক রাষ্ট্র’ গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে তখনই, যখন একজন সাধারণ নাগরিক কোনো বিপদ বা অবিচারের মুখে নির্ভয়ে থানায় যেতে পারবেন।
পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ কেবল একটি বাৎসরিক উদযাপনের নাম নয়, এটি হোক আত্মশুদ্ধি ও নতুন অঙ্গীকারের মুহূর্ত। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী, পুলিশ যদি পেশাদারিত্ব, সততা ও মানবিকতাকে পাথেয় করে এগোতে পারে, তবে বাংলাদেশ একটি সত্যিকারের বৈষম্যহীন ও নিরাপদ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশের এই কার্যকর ভূমিকার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।