চুক্তি না হয় আত্মসমর্পণ—ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম
ইরানের সামনে এখন কেবল দুটি পথ খোলা আছে—সমঝোতা চুক্তি কিংবা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড…
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের প্রায় আট বছর পর এই ঘটনায় নতুন আইনি মোড় নিয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য ফ্রান্সে একজন বিশেষ বিচারককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার (১৬ মে ২০২৬) ফ্রান্সের জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কৌঁসুলির কার্যালয় (পিএনএটি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কৌঁসুলির কার্যালয় (পিএনএটি) জানিয়েছে, জামাল খাসোগির ওপর চালানো নির্যাতন ও গুমের অভিযোগের বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে এই তদন্ত পরিচালনা করা হবে। গত ১১ মে প্যারিসের আপিল আদালতের দেওয়া এক আদেশ মেনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ট্রায়াল ইন্টারন্যাশনাল’ এবং ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স’ (আরএসএফ)-এর দায়ের করা একটি যৌথ অভিযোগ আদালত আমলে নেওয়ার পর এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলো। তবে খাসোগির কর্মস্থল ‘ডন’ (DAWN)-এর করা একটি পৃথক আবেদন আদালত খারিজ করে দিয়েছেন।
২০১৮ সালের অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করার পর নিখোঁজ হন ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাসোগি। পরবর্তীতে জানা যায়, সৌদি আরবের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তাকে কনস্যুলেটের ভেতরেই নির্মমভাবে হত্যা করে এবং লাশ টুকরো টুকরো করে গুম করে ফেলে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি ছিল, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সরাসরি নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। যুবরাজ এই নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি আগে থেকেই জানতেন বলে স্বীকার করেছিলেন।
ফরাসি আদালতের এই উদ্যোগকে খাসোগি হত্যার বিচারে একটি বড় মাইলফলক ধরা হচ্ছে, কারণ এর আগে আন্তর্জাতিকভাবে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়াগুলো নানা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কারণে থমকে গিয়েছিল।
তুরস্কের পদক্ষেপ: ২০২২ সালে তুরস্কের একটি আদালত ২৬ জন সৌদি সন্দেহভাজনের বিচারকাজ হঠাৎ স্থগিত করে মামলাটি সৌদি আরবে স্থানান্তর করে, যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের দায়মুক্তি: যুক্তরাষ্ট্রে খাসোগির বাগদত্তার করা একটি দেওয়ানি মামলা মার্কিন ফেডারেল আদালত খারিজ করে দেয়। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বাইডেন প্রশাসন তাকে আইনি সুরক্ষা বা ‘দায়মুক্তি’ দেওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
ফরাসি আইন অনুযায়ী, দেশের বাইরে সংঘটিত যেকোনো গুরুতর অপরাধ বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার তদন্ত ফরাসি বিচারকেরা শুরু করতে পারেন। তবে এই আইনের অধীনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শেষ পর্যন্ত বিচারের মুখোমুখি করতে হলে সাধারণত তাকে ফরাসি ভূখণ্ডে উপস্থিত থাকতে হয়। এই তদন্তের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সৌদি সরকারের গণমাধ্যমবিষয়ক কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের আইনজীবী এমানুয়েল দাউদ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “জামাল খাসোগিকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা জঘন্যতম একটি অপরাধ। সৌদি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। খাসোগি ভিন্নমতাবলম্বী ও স্বাধীন মতের মানুষ ছিলেন বলেই তাকে এই পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে।” অন্যদিকে, ট্রায়াল ইন্টারন্যাশনালের আইনজীবী অঁরি তুলিয়ে বলেন, “জামাল খাসোগির ওপর সংঘটিত এই নৃশংস অপরাধের বিচারিক তদন্ত শুরু করতে আর কোনো আইনি বাধা থাকা উচিত নয়।”