দুর্গাপূজায় ২০-২২ অক্টোবর ছুটি, টানা ৫ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা
দুর্গাপূজায় ২০ থেকে ২২ অক্টোবর ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। ১৭ অক্টোবর শনিবার অফিস খোলা থাকবে এবং ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি পুনর্বহাল।
রাজশাহী প্রতিনিধি: সরকারের নীতি ও কার্যক্রমের সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকারের ধোঁকাবাজি ও প্রতারণার বিরুদ্ধে তাঁদের আন্দোলন সংসদ ও রাজপথে একযোগে চলবে। আজ শনিবার (১৬ মে ২০২৬) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত ১১-দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, “যে ১৬টি অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন না হলে বাংলাদেশের সুশাসন নিশ্চিত করা অসম্ভব, সেগুলো তারা ফেলে দিয়েছে। এগুলো যদি তারা বাস্তবায়ন না করে, আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, আমাদের আন্দোলন চলবে সংসদে এবং একই সঙ্গে রাজপথেও।”
সংসদে বিরোধী দলকে কথা বলতে না দেওয়া হলে রাজপথে নামার আলটিমেটাম দিয়ে তিনি বলেন, “যেখানে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে কথা বলা লাগে, সেখানে যদি কথা বলতে দেওয়া না হয়, তাহলে আমরা সেখানে চলে আসব, যেখানে কথা বলার জন্য স্পিকারের কোনো অনুমতি লাগে না। আমরা তখন জনগণের পার্লামেন্টে চলে আসব।”
তরুণদের নেতৃত্বে গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, সেই আন্দোলনের সুফল বর্তমান ক্ষমতাসীনরা ভোগ করছেন। গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করার বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অতীতে কেউ রেহাই পায়নি, আপনারাও রেহাই পাবেন না। গণভোটের রায়ও বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করা হবে।”
বক্তব্যে বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “দেশে রাজনৈতিক দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। আপনাদের নাম ছিল জাতীয়তাবাদী দল। এখন মানুষ বলে চাঁদাবাজি দল।” এ সময় তিনি দলমত নির্বিশেষে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সরকারের পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এটি যেন শুধু লোকদেখানো ঘোষণা না হয়ে বাস্তবে রূপ নেয়। একই সাথে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “তিস্তাসহ তিনটি নদীর পাড়ের আড়াই কোটি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করার জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। কারও রক্তচক্ষুর দিকে না তাকিয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।”
প্রতিবেশী দেশ ভারত প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আমরা চাই, আপনারা শান্তিতে থাকুন, নিজেদের দেশের ভিতরে মানবিক পরিবেশ তৈরি হোক। আপনারা আমাদের শান্তি নিয়ে টান দিলে কারও শান্তি থাকবে না।” এছাড়া ইতিহাস চর্চা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে, তবে শুধু অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে জাতি এগোতে পারবে না।
রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডলের সঞ্চালনায় এবং জামায়াতের সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এই বিশাল সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. অলি আহমদ, জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির সিরাজুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামীর আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালাল উদ্দিন আহমদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমসহ ১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।