প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শুক্রবার (২৬ জুন) চীনের স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য…
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে পুনরায় চালু হচ্ছে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট বা পর্যটন ভিসার আবেদন। ঢাকায় নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টার অংশ হিসেবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ জুন থেকেই নতুন নিয়মে ভিসা দেওয়ার এই কার্যক্রম শুরু হবে।
তবে এবার ভারতের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন থেকে ভিসা সেন্টারে কাগজ জমা দেওয়ার অন্তত একদিন আগেই অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। দেশের ৫টি ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (আইভ্যাক) পর্যটন ভিসার আবেদন করা যাবে। কেন্দ্রগুলো হলো— ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা।
ভিসা আবেদনের সঠিক নিয়ম: ভিসা আবেদনের জন্য প্রথমে ভারতের অফিশিয়াল ভিসা ইউআরএল-এ (indianvisa-bangladesh.nic.in/visa/Registration) প্রবেশ করে ফর্ম পূরণ করতে হবে। ফর্মটি সঠিকভাবে পূরণের পর সেটি ডাউনলোড করতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট নিয়মে অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করতে হবে।
যেভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করবেন:
সময়সূচি: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার আগের কার্যদিবসে অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করতে হবে। দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে সাইন-আপ এবং মূল আবেদনপত্রের পিডিএফ (ওয়েবফাইল) আপলোড করতে হবে। বিকেল সাড়ে ৪টার পর সাইন-আপ করার সুযোগ থাকবে না।
ভেরিফিকেশন: অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট লিংকে (appointment.ivacbd.com) গিয়ে আবেদনপত্রের ইমেইল অ্যাড্রেস দিয়ে সাইন-আপ করতে হবে। এরপর মোবাইলে ও ইমেইলে যাওয়া ওটিপি (OTP) সাবমিট করে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে।
স্লট বুকিং: সাইন-আপ শেষে মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট চালু হলে পুনরায় লগইন করতে হবে। সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী দিনের একটি স্লট দেখাবে, যা সর্বোচ্চ একবার পরিবর্তন করা যাবে।
শর্ত: আপলোড করা ফাইলটি অবশ্যই মূল ভিসা আবেদনপত্রের পিডিএফ হতে হবে এবং তা ৩০ দিনের বেশি পুরোনো হওয়া চলবে না। এডিট করা বা বিকৃত ফাইল আপলোড করলে আবেদন বাতিল হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (ডকুমেন্ট): ১. অন্তত ৬ মাসের মেয়াদ ও দুটি খালি পৃষ্ঠাসহ মূল পাসপোর্ট এবং প্রথম ৪ পাতার কপি। (আবেদনের সাথে আগের সব পুরোনো পাসপোর্ট অবশ্যই জমা দিতে হবে)। ২. সাম্প্রতিক তোলা (৩ মাসের বেশি পুরোনো নয়) ২×২ সাইজের রঙিন ছবি (পূর্ণ মুখমণ্ডল স্পষ্ট হতে হবে)। ৩. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি। ৪. বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বা টেলিফোন বিলের কপি (৬ মাসের বেশি পুরোনো নয়)। ৫. পেশার প্রমাণপত্র: চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে নো-অবজেকশন লেটার (NOC), শিক্ষার্থীদের জন্য আইডি কার্ড এবং ব্যবসায়ীদের জন্য হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স। ৬. আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ: পাসপোর্টে ১৫০ ডলার সমমূল্যের বিদেশি মুদ্রা এনডোর্স, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের কপি অথবা পর্যাপ্ত ব্যালেন্সসহ হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট। ৭. রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ অনলাইন ভিসা আবেদনপত্র (নির্দিষ্ট স্থানে ছবি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে)।
ভিসা প্রসেসিং ফি: ভারতের পর্যটন ভিসার জন্য নিজস্ব কোনো ফি নেই। তবে আইভ্যাকের (IVAC) প্রসেসিং চার্জ বাবদ ১ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং নিশ্চিত করার সময় এই টাকা অনলাইনে পেমেন্ট করতে হবে।
পাসপোর্ট ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া: ভিসা প্রসেসিং সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদনকারীর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে এসএমএস (SMS) এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। মেসেজ পাওয়ার পর নির্দিষ্ট আইভ্যাক কেন্দ্র থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যাবে।