সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বর্তমান প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার জাতীয়…
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনকালে হওয়া সব ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার রাতে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যা খতিয়ে দেখা জরুরি। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন শ্বেতপত্র কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এই তদন্ত শুরু হতে পারে। এই ১৮ মাসের অস্থির সময়ে কোথায় কী দুর্নীতি হয়েছে এবং কারা এর পেছনে জড়িত, তা দুদকের মাধ্যমে খুঁজে বের করে প্রতিবেদন জাতির সামনে প্রকাশ করা দরকার।” বর্তমান সরকারের ভিত্তি স্বচ্ছতা, তাই যেকোনো অভিযোগেরই নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া বাঞ্ছনীয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বক্তব্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের প্রাতিষ্ঠানিক লুটপাট ও অর্থ পাচারের তীব্র সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশে জবাবদিহির অভাবে এক ধরনের লুটেরা অর্থনীতি গড়ে উঠেছিল। এই সময়ে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং গত ১৫ বছরে সব মিলিয়ে প্রায় ২৯ থেকে ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকিং খাতে লোন স্ক্যাম, মেগা প্রজেক্টের নামে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বৃদ্ধি এবং কুইক রেন্টালের ইনডেমনিটির মাধ্যমে আইনি মোড়কে দুর্নীতি করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিগত আমলের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের চরম অস্থির সময় পার করে বর্তমান সরকার ৯ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ একে ‘এ বাজেট অফ নিউ ইকোনমিক অর্ডার’ বলে আখ্যা দেন।
তিনি বলেন, “টেকনাফের একজন অসহায় বিধবা নারীও যেন এই বাজেটের সুফল পান, সেই লক্ষ্যেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কোনো ধরনের ট্যাক্স বাড়ানো হয়নি। ফলে এবার বাজেট ঘোষণার আগে বা পরে কোনো নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি।”
বাজেটের মূল দর্শন হিসেবে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং স্মার্ট রূপান্তরের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার এই সময়ে বাংলাদেশকে নিজস্ব সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি পুনর্বিন্যাস করতে হয়েছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে মিল রেখে এই বাজেটে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনরুদ্ধারসহ পাঁচটি মূল ভিত্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জনকল্যাণমুখী এই বাজেট বাস্তবায়নে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।