ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনি ফুটবলার নিহত
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ফিলিস্তিনি যুব ফুটবলার প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা…
আন্তর্জাতিক ডেস্কা: মেডিকেল ও ডেন্টালে ভর্তি পরীক্ষা (নিট)-র প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারত। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতন ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন প্রতিবাদ জানিয়েছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবন (৭ লোক কল্যাণ মার্গ)-এর সামনে হঠাৎ ধরনায় বসেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী জোটের হেভিওয়েট নেতারা। সাড়ে তিন ঘণ্টা টানা অবস্থান শেষে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে তাদের সরিয়ে দেয় এবং আটক করে বাসে তুলে নিয়ে যায়। জবরদস্তির সময় ধস্তাধস্তিতে রাহুল গান্ধীর নাক দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায়।

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) গত দুই মাস ধরে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে আসছে। ২৪ দিন আগে লাদাখের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী ম্যাগসাইসাই পুরস্কারপ্রাপ্ত সোনম ওয়াংচুক শিক্ষার্থীদের সমর্থনে অনশন শুরু করেন।
সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর আগেই পুলিশ অনশনমঞ্চ ভেঙে সোনম ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে গত সোমবার সংসদ ভবন অভিমুখে যাত্রা করে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। মিছিল রুখতে দিল্লি পুলিশ বেধড়ক লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে দুই পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়, এতে শতাধিক শিক্ষার্থী ও পুলিশ সদস্য আহত হন।

সোমবারের পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদে গতকাল বিরোধী নেতারা স্পিকার ওম বিড়লার সাথে দেখা করলেও কোনো আশ্বাস পাননি। পরবর্তীতে রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শিক্ষার্থীদের দেখে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে সরাসরি অবস্থান নেওয়ার।
বিকালে সাড়ে তিনটায় হুট করেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধরনায় বসেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা। এই নজিরবিহীন ঘটনার পর সেখানে উপস্থিত হন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে, আন্দোলনকর্মী যোগেন্দ্র যাদবসহ কেরল ও কর্ণাটকের কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রীরা।
‘এক্স’ হ্যান্ডলে দেওয়া এক বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন:
পুলিশি অত্যাচারের জবাব চাইতে এসেছি। দেশের যুব সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার অপরাধে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। ছাত্রদের ওপর আক্রমণ প্রতিটি ভারতীয় পরিবারকে আক্রমণের শামিল।

সন্ধ্যায় সরকারের প্রতিনিধি মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এসে সংসদে আলোচনার আশ্বাস দিলেও রাহুল গান্ধী শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকেন। সমঝোতা না হওয়ায় সন্ধ্যা সাতটার দিকে পুলিশ জবরদস্তি শুরু করে। রাহুল গান্ধীকে মাটিতে শুইয়ে ফেলে ১০-১২ জন পুলিশ সদস্য টেনে-হিঁচড়ে বাসে তোলে। এই সময় তার নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়।
আটককৃত নেতাদের দিল্লির ছত্রশাল স্টেডিয়ামে নিয়ে পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মন্দির মার্গ থানায় নেওয়া হলে রাতে তাকে দেখতে ছুটে যান কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী। রাত ৯টায় তিনিও মুক্তি পান।
এদিকে হাসপাতাল থেকে সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন প্রত্যাহার করবেন না। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরাও জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও বিচার না পাওয়া পর্যন্ত সারা দেশে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।