হরমুজ ও লোহিত সাগরে উত্তাপ, বাড়ছে তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধার মুখে বিশ্ববাজারে হু-হু করে বাড়ছে তেলের দাম। ব্রেন্ট ক্রুড ৯৬ ডলার পার। বিস্তারিত খবর দৈনিক শব্দমিছিলে।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে গতকাল বুধবার ৯ হাজার ৫০০ কোটি (৯৫ বিলিয়ন) ডলারের এক বিশাল অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়েছে। এই প্রস্তাবিত বাজেটের সিংহভাগ অর্থই পেন্টাগনের অধীনে মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করার উদ্দেশ্যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভে চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ২১৬–২১৪ ভোটের ব্যবধানে বিলটি পাস হয়। বর্তমানে বিলটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য মার্কিন সিনেটে পাঠানো হয়েছে, যেখানে এটির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
ঘোষিত এই বিপুল বাজেটের ৭ হাজার ৩০০ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য। এর প্রধান লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অপারেশনগুলোর নির্বিঘ্ন অর্থায়ন নিশ্চিত করা।
এছাড়া বাজেটের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বরাদ্দের মধ্যে রয়েছে:
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিতে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার।
দেশব্যাপী নতুন ভোটদান-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকরের ট্রাম্পীয় উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১ হাজার কোটি ডলার।
আসন্ন নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টির এটিই শেষ বড় আইনি উদ্যোগ। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়ে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও আধিপত্য ধরে রাখতে এই বিলকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন এই বিল পাস হওয়াকে দলের নীতিগত জয় হিসেবে উল্লেখ করে জানান, এই প্রস্তাব দেশের সীমান্ত ও সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত করবে।
অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেত্রী রোসা দেলাউরো ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধমুখী বাজেটের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন:
মার্কিন জনগণ মধ্যপ্রাচ্যে অনির্দিষ্টকালব্যাপী, লক্ষ্যহীন, অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও প্রাণঘাতী যুদ্ধ চান না। দেশের মানুষ এখন মূল্যস্ফীতির চাপে জর্জরিত; তারা খাদ্য, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর নিশ্চয়তা চান।
বিলটি সিনেটে পাস হলে গ্রীষ্মের শেষভাগে রিপাবলিকান আইন প্রণেতারা এ বিষয়ে চূড়ান্ত আইন রূপরেখা তৈরি করবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে অব্যাহত মূল্যস্ফীতি এবং যুদ্ধ বাজেটের বিশাল অঙ্ক আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।