মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বিস্তার এবং বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুই নৌপথ—হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে সংঘাত তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। পর পর কয়েক দিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা এখন প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দাম পৌঁছেছে ৮৮ ডলারের ওপরে। আজ এক দিনেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.০৫ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১.৬২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তায় নতুন সংকট দেখা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে এই অস্বাভাবিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি এখন সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তাদের সাথে সমন্বয় ছাড়া কোনো জাহাজ যাতায়াত করতে দেওয়া হবে না।
এমনকি দক্ষিণাঞ্চলের নৌরুটগুলোতে মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে বলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে মাইন বিস্ফোরণে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, লোহিত সাগরে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ ঘোষণা করে বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার ‘এনসেলিয়া’-সহ একাধিক জাহাজে হামলার দাবি করেছে। হুতিদের সতর্কবার্তার পর ওই অঞ্চলে প্রায় ১০টি বাণিজ্যিক জাহাজ গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন যুক্তরাষ্ট্র টানা ১২তম রাতে ইরানে সামরিক হামলা চালায়। এর আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরান কোনো জাহাজে হামলা চালালেই জবাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন অনমনীয় অবস্থান এবং ইরান ও হুতি বিদ্রোহীদের পাল্টা সামরিক তৎপরতায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ ও লোহিত সাগরের নৌপথ পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটবে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে বহুদূর পৌঁছাতে পারে।