থাইল্যান্ডে সাইবার অপরাধ ও ভয়েস ফিশিং চক্রের মূলহোটা ১২ দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক গ্রেপ্তার
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিলাসবহুল বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ভয়েস ফিশিং ও সাইবার জালিয়াতিতে জড়িত ১২ দক্ষিণ কোরীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আন্তর্জাতিক: মার্কিন সামরিক বাহিনীর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ক্ষোভ প্রকাশ ও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালির কাছে ১০টি মার্কিন জাহাজ এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এই হামলায় প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ট্র্যাকিং প্রযুক্তি সংবলিত নতুন ‘ধ্বংসকারী-বিরোধী’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে তেহরান।
আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ এবং মার্কিন সেন্টকমকে (CENTCOM) উদ্ধৃত করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস নাউ’ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
ইরানের সুপ্রিমে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নবনিযুক্ত সচিব মহসিন রেজাই জানিয়েছেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে এই বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে প্রয়োগের পর “আমেরিকানদের জন্য জাহান্নাম তৈরি হয়েছিল এবং তারা পালিয়ে গেছে”। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির পরিবর্তনের পর ইরান তাদের সামরিক কৌশলকে দীর্ঘদিনের ‘প্রতিরোধমূলক’ অবস্থান থেকে পরিবর্তন করে আক্রমণাত্মক ‘সক্রিয় প্রতিরোধ’ ব্যবস্থায় নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি জিপিএস ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব অপটিক্যাল সেন্সর ও ক্যামেরার সাহায্যে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, চীন বা রাশিয়ার কৃত্রিম উপগ্রহের (স্যাটেলাইট) প্রযুক্তিগত সহায়তায় ইরান এই অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরি করেছে।
এর আগে পারস্য উপসাগরের খারগ দ্বীপের নিকটবর্তী এলাকায় ইরানের পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার মার্কিন বিমান হামলায় ধ্বংস হয়েছিল। তারই প্রতিশোধ ও আত্মরক্ষার আইনগত অধিকার হিসেবে এই জোরালো পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই আক্রমণের সত্যতা স্বীকার করলেও দাবি করেছে যে, ইরানের হামলায় তাদের কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্রই মাঝআকাশে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই উত্তেজনার জেরে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে—যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়—তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটি এবং তেল ট্যাঙ্কারগুলোতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের সকল বাণিজ্যিক নাবিকদের সম্ভাব্য বিপদ এড়াতে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন নৌঘাঁটি বা জাহাজে ইরানি আক্রমণ অব্যাহত থাকলে ইরানকে আরও চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তারা আরও তেলবাহী জাহাজ হারাবে।