ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে সৌদি জোটের ৪০টি বিমান হামলার দাবি হুথিদের
ইয়েমেনের তাইজ, আল-হুদায়দাহ ও মারিবসহ বিভিন্ন এলাকায় ৪০টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি জোট—এমনটাই দাবি করেছে হুথি পরিচালিত গণমাধ্যম।
আন্তর্জাতিক: কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি মনুষ্যবিহীন সাবমেরিন বা ডাইভ-এলডি ড্রোন আটক করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ড্রোনটি আটকের ফলে তেহরান সেটি পর্যবেক্ষণ ও ‘রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার সুযোগ পেতে পারে, যা পেন্টাগন এবং ড্রোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের জন্য একটি বড় কৌশলগত ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স দাবি করেছেন, বিকল হয়ে পড়া ড্রোনটি তুলনামূলক পুরোনো মডেলের ছিল এবং এটি থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কোনো সংবেদনশীল বা গোপনীয় তথ্য হাতানোর সুযোগ নেই। এছাড়া ড্রোনটির প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল জানিয়েছে, তাদের তৈরি এই ড্রোনটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হলেও কারিগরি ত্রুটির কারণে সেটি মাঝসমুদ্রে অকেজো হয়ে ভাসছিল।
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একপ্রকার উপহাস শুরু করেছে। ঘানায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাস এক বার্তায় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ভেসে থাকা মার্কিন ড্রোনটিকে তাদের কর্মীরা অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি ভারতের হায়দ্রাবাদে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস ড্রোনটির ‘রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং’ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু করার কথা নিশ্চিত করেছে।
ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির গবেষক ফারজিন নাদিমি এবং হাডসন ইনস্টিটিউটের ব্রায়ান ক্লার্কের মতে, ড্রোনের সফটওয়্যারে শক্তিশালী ডিজিটাল সুরক্ষা থাকায় ইরানের পক্ষে তা সহজে ভেদ করা কঠিন হতে পারে। তবে তারা এর যান্ত্রিক কাঠামো বা মেকানিজম সহজেই ‘রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ার’ করে নিজেদের সামরিক প্রযুক্তির নকশা উন্নত করতে সক্ষম। এর আগে ২০১১ সালেও ইরান অনুরূপভাবে মার্কিন আরকিউ-১৭০ ড্রোন আটক করার পর সফলভাবে নিজস্ব প্রযুক্তির ড্রোন তৈরি করেছিল।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের পরিচালক মোনা ইয়াকুবিয়ান মনে করেন, তেহরান এই ঘটনাকে ওয়াশিংটনের সামরিক অদক্ষতা হিসেবে তুলে ধরতে এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য জাহির করতে একটি বড় প্রচারণামূলক সাফল্য হিসেবে ব্যবহার করছে।