ইউটিউবে ইতিহাস গড়ল পাকিস্তানি নাটক ‘জানজিরেইন’, ভিউ ছাড়াল ১.৩ বিলিয়ন
জনপ্রিয় পাকিস্তানি ধারাবাহিক ‘জানজিরেইন’ ইউটিউবে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ভিউয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বর্তমানে এর মোট ভিউ ১.৩ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে।
বিনোদন: বাংলা চলচ্চিত্রে কিছু মুখ থাকে, যা সময় পেরিয়েও দর্শকের স্মৃতি থেকে কখনো মুছে যায় না। চরিত্রের বৈচিত্র্য, অভিনয়ের স্বতন্ত্র ধরন আর সংলাপ উপস্থাপনের নিজস্ব ভঙ্গিতে তেমনই এক অবিস্মরণীয় নাম এটিএম শামসুজ্জামান। খলনায়ক, কৌতুক অভিনেতা কিংবা শক্তিশালী পার্শ্বচরিত্র—যেই ভূমিকাতেই হাজির হয়েছেন, নিজের অতুলনীয় অভিনয়গুণে সেটিকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। আজ ১০ সেপ্টেম্বর এই কিংবদন্তি অভিনেতার জন্মবার্ষিকী। বিশেষ এই দিনে ফিরে দেখা যাক তাঁর দীর্ঘ ও বর্ণিল চলচ্চিত্রজীবন।
১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে জন্মগ্রহণ করেন আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান, যিনি সবার কাছে ‘এটিএম শামসুজ্জামান’ নামেই সমাদৃত। ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তবে পাঁচ দশকের বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি রেখে গেছেন এমন সব অবিস্মরণীয় চরিত্র, যা বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।
এটিএম শামসুজ্জামানের কর্মজীবন কেবল অভিনয় দিয়ে শুরু হয়নি। ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে তাঁর পথচলা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লেখাতেও তিনি অনন্য দক্ষতার পরিচয় দেন। বিখ্যাত ‘জলছবি’ সিনেমার জন্য কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখে তিনি দর্শকের কাছে নতুনভাবে পরিচিতি পান। নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রের কাহিনি ও চিত্রনাট্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে বড়পর্দায় অভিনেতা হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৯৬৮ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘এতটুকু আশা’ সিনেমায় তাঁকে প্রথম পর্দায় দেখা যায়। শুরুর দিকে কৌতুক চরিত্রে অভিনয় করলেও ১৯৭৬ সালে আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন। এরপর ‘লাঠিয়াল’, ‘অশিক্ষিত’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ ও ‘স্বপ্নের নায়ক’-এর মতো সিনেমায় তাঁর খলচরিত্র দারুণ প্রশংসিত হয়।
তবে তাঁকে শুধু খলনায়কের গণ্ডিতে আটকে রাখা যায়নি। একদিকে যেমন ভয়ংকর বা গম্ভীর চরিত্রে তিনি দর্শককে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন, অন্যদিকে ‘রামের সুমতি’, ‘যাদুর বাঁশি’, ‘ম্যাডাম ফুলি’ ও ‘চুড়িওয়ালা’র মতো সিনেমায় তাঁর হাস্যরসাত্মক ও কৌতুক অভিনয় সমানভাবে দর্শক হৃদয় জয় করেছে। ‘ওরা ১১ জন’, ‘সংগ্রাম’, ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ ও ‘গেরিলা’র মতো সাহিত্যনির্ভর ও ক্লাসিক সিনেমায় তাঁর ভিন্নধর্মী অভিনয় প্রমাণ করে তিনি কতটা শক্তিশালী ও বহুমুখী অভিনেতা ছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি ‘এবাদত’ নামে একটি সিনেমাও পরিচালনা করেন।
শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বহুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ‘দায়ী কে?’, ‘ম্যাডাম ফুলি’, ‘চুড়িওয়ালা’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’ ও ‘চোরাবালি’ সিনেমার জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও খলঅভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৫ সালে তাঁকে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করা হয়। এছাড়া দীর্ঘ অভিনয়জীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে আজীবন সম্মাননাও প্রদান করা হয়।
আজ এই কিংবদন্তি অভিনেতা আমাদের মাঝে শারীরিকভবে না থাকলেও তাঁর রেখে যাওয়া অসামান্য সৃষ্টি ও অভিনয়ের জাদুতে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন বাংলার সিনেমাপ্রেমী মানুষের হৃদয়ে।