ইংল্যান্ড সফরে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল
ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথে ভুলবশত আশ্রয়প্রার্থী ভেবে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলকে ঘিরে ধরেছিল বিক্ষোভকারীরা। পরবর্তীতে স্থানীয় কাউন্সিলরের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
খেলাধুলা: বয়স যেন কেবলই একটি সংখ্যা—কথাটি আরও একবার প্রমাণ করলেন দক্ষিণ আফ্রিকার রেকর্ডভাঙা লেগ স্পিনার ইমরান তাহির। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের নেতৃত্ব দেওয়া এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ৪৭ বছর বয়সেও বল হাতে গড়েছেন নতুন ইতিহাস। প্রভিডেন্সে সেন্ট লুসিয়ার বিপক্ষে মাত্র ১৭ রান খরচ করে ৫ উইকেট শিকার করে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং ফিগারের নজির গড়লেন তিনি।
ম্যাচটিতে সেন্ট লুসিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দিয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে এই ৫ উইকেট শিকার করেন তাহির। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এটি তাঁর ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি। এই সংস্করণে সবচেয়ে বেশিবার ৫ উইকেট নেওয়ার বিশ্বতালিকায় তিনি এখন দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। তাঁর চেয়ে ওপরে কেবল নামিবিয়ার ডেভিড ভিসা রয়েছেন, যিনি ৭ বার ৫ উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া ৫ বার করে ৫ উইকেট নিয়ে এই তালিকার যৌথভাবে তিনে আছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি, লাসিথ মালিঙ্গা, ভুবনেশ্বর কুমার, সাকিব আল হাসান ও রশিদ খান।
বয়সের বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বোলিংয়ের ধার তো কমেইনি, বরং রেকর্ডবুকে নিজের নাম আরও ওপরে নিয়ে যাচ্ছেন এই লেগ স্পিনার। সব ধরনের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মিলিয়ে বর্তমান সময়ে ইমরান তাহিরের মোট উইকেটের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৮৯টিতে। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বোলারদের তালিকায় তাঁর অবস্থান বর্তমানে চতুর্থ। তাঁর চেয়ে বেশি উইকেট রয়েছে কেবল রশিদ খান (৭৩৬), সুনীল নারাইন (৬৫৭) এবং ডোয়াইন ব্রাভোর (৬৩১)।
বিশেষ করে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) তাহিরের আধিপত্য আকাশচুম্বী। ৫৮৯টি মোট উইকেটের একটি বড় অংশ অর্থাৎ সিপিএলেই তাঁর সর্বোচ্চ ১৪২টি উইকেট শিকার রয়েছে। এমনকি বর্তমান মৌসুমেও দুর্দান্ত ফর্মে থেকে ইতিমধ্যে ১২টি উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। ৪৭ বছর বয়সেও মাঠে শুধু বোলিংয়েই নেতৃত্ব দিচ্ছেন না, বরং গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স দলকে সামনে থেকে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। অথচ জাতীয় দলের জার্সিতে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে তিনি সর্বশেষ মাঠে নেমেছিলেন সাত বছরেরও বেশি সময় আগে। বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি দেশের হয়ে ২০টি টেস্ট, ১০৭টি ওয়ানডে এবং ৩৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। বয়সের সীমানা পেরিয়ে তাঁর এই অপ্রতিরোধ্য পথচলা ক্রিকেটবিশ্বে তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।