শিশুদের অধিকার ও সমতার বার্তা নিয়ে আজ মীনা দিবস
শিশুদের শিক্ষা, অধিকার, স্বাস্থ্য ও সমতার বার্তা নিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে মীনা দিবস। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশে প্রথম সম্প্রচারিত মীনা এখনও শিশুদের কাছে জনপ্রিয়।
বিশ্ববিদ্যালয়: বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে একই কক্ষে থাকতেন তিন বন্ধু। একই ছাদের নিচে চলত পড়াশোনা, নিয়মিত গ্রুপ স্টাডি আর একে অপরকে পড়ানোর আয়োজন। কখনো একজন শিক্ষক, কখনো আরেকজন—ব্যক্তিগত কক্ষটিই হয়ে উঠেছিল তাঁদের ছোট্ট পাঠশালা।
সেই কক্ষ থেকেই শুরু হয়েছিল বিচারক হওয়ার স্বপ্ন। ১৬তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় প্রথমবার সাফল্য পান তিন বন্ধুর একজন। জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন আরিফ হোসাইন। এরপর পরপর দুইবার ব্যর্থ হলেও হাল ছাড়েননি অপর দুই বন্ধু মো. আনোয়ার হোসেন ও শাকির আলম। অবশেষে ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় তাঁরাও সহকারী জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
ঘটনাটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তিন শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষের তিন রুমমেটের।
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে ৪২২ নম্বর কক্ষ ছিল তিন বন্ধুর পড়াশোনা ও প্রস্তুতির অন্যতম কেন্দ্র। গভীর রাত পর্যন্ত পড়াশোনা, গ্রুপ ডিসকাশন এবং একে অপরকে বিভিন্ন বিষয় বুঝিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে চলত তাঁদের প্রস্তুতি।
তাঁদের মধ্যে আরিফ হোসাইন ১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে প্রথমে বিচারক হওয়ার সুযোগ পান। বন্ধুর সাফল্য বাকি দুজনের জন্য যেমন আনন্দের ছিল, তেমনি তাঁদের নিজেদের লক্ষ্য পূরণের তাগিদও আরও বাড়িয়ে দেয়।
আরিফ হোসাইন বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মহান রবের প্রতি কৃতজ্ঞতা, যিনি আমাদের তিন বন্ধুকে এমন সম্মান দিয়েছেন। সবার জন্য শুভকামনা ও ভালোবাসা।’
আরিফের পর মো. আনোয়ার হোসেন ও শাকির আলমও জুডিশিয়ারিতে ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে প্রস্তুতি চালিয়ে যান। তবে প্রথম দুইবারের চেষ্টায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি। ব্যর্থতার পরও তাঁরা প্রস্তুতি থেকে সরে দাঁড়াননি।
সর্বশেষ ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় দুজনই চূড়ান্তভাবে সহকারী জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
শাকির আলম বলেন, ‘প্রথমেই মহান আল্লাহ–তাআলার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা যে তিনি আমাকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছেন। টানা দুবার ব্যর্থ হওয়ার পরও হাল ছাড়িনি। তৃতীয়বারের চেষ্টায় উত্তীর্ণ হয়েছি।’
তিনি বলেন, পরিবার ও সমাজের উৎসাহের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই-আপুদের জুডিশিয়ারিতে সাফল্য তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে। তবে তাঁর কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো—সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষের তিন রুমমেটই এখন জজ হয়েছেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে প্রতিবছরই জুডিশিয়ারিতে শিক্ষার্থীদের সাফল্য দেখা যায়। এবারও একাধিক শিক্ষার্থী বিচার বিভাগে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন।
আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হালিমা খাতুন বলেন, তাঁদের বিভাগ প্রতিবছরই জুডিশিয়ারিতে ভালো ফল করে। এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। জুডিশিয়ারিকে পেশা হিসেবে নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের গাইডলাইন দেওয়া এবং তাঁদের ভিত্তি শক্ত করতে বিভাগ কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
তিন রুমমেটের সাফল্যকে বিভাগের জন্য গৌরবের বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ১৪ জন, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগ থেকে চারজন এবং আল ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের একজন শিক্ষার্থী সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
তবে তাঁদের সাফল্যের গল্পে সবচেয়ে আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছে সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষের তিন বন্ধুর গল্প—একসঙ্গে শুরু করা প্রস্তুতি, একজনের আগাম সাফল্য এবং অন্য দুজনের ব্যর্থতার পরও অবিচল থেকে শেষ পর্যন্ত একই গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া।